বাজার বিশ্লেষণ
বাজার মূলধন বাড়লো ৮ হাজার কোটি টাকা
গত সপ্তাহজুড়ে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনে অংশ নেওয়া যে কয়টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে, তার তিনগুণের বেশি দাম বেড়েছে। এতে ডিএসইর বাজার মূলধন ৮ হাজার কোটি টাকার ওপরে বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে মূল্য সূচক। তবে দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা কমেছে।
এর মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর টানা দুই সপ্তাহ বাজার মূলধন বাড়লো। এতে সপ্তাহের দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি বাজার মূলধন বড় অঙ্কে বেড়ে গেছে। গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ২৭৪টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৮৩টির দাম কমেছে এবং ৩২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। অর্থাৎ দাম বাড়ার তালিকায় স্থান হয়েছে ৭০ দশমিক ৪৪ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের।
দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ায় সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের লেনদেন শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ১৮ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা। যা আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৭ লাখ ১০ হাজার ৩৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন বেড়েছে ৮ হাজার ৩২৭ কোটি টাকা বা ১ দশমিক ১৭ শতাংশ। আগের সপ্তাহের বাজার মূলধন বাড়ে ১ হাজার ৬০ কোটি টাকা।
বাজার মূলধন বাড়ার পাশাপাশি গত সপ্তাহে প্রধান মূল্য সূচকও বেড়েছে। ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স সপ্তাহজুড়ে বেড়েছে ১৩৪ দশমিক ৩৪ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ৪৬ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি বাড়ে ৬৫ দশমিক ৯৯ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ২২ শতাংশ।
অপর দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক গত সপ্তাহজুড়ে বেড়েছে ৭১ দশমিক ৫৮ পয়েন্ট বা ৩ দশমিক ৪১ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি বাড়ে ৩৮ দশমিক ৯৩ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৮৯ শতাংশ।
ইসলামী শরিয়াহ ভিত্তিতে পরিচালিত কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক গত...
বন্ধের তালিকায় থাকা ৫ নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে বড় দরপতন
দেশের ৯টি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) বন্ধ বা অবসায়নের উদ্যোগ নিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে, মঙ্গলবার এর মধ্যে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক সূচকে উন্নতির সুযোগ দিয়ে বাকি ৬টিকে অবসায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নতুন করে বন্ধের তালিকায় থাকা ৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫টি দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রয়েছে। ওই পাঁচটি প্রতিষ্ঠানেই বুধবার সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ সীমায় দরপতন হয়েছে। বিপরীতে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাওয়া ৩টির দর সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ সীমায় বেড়েছে।
দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ হওয়ার আলোচনায় থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে অ্যাভিভা ফাইন্যান্স ছাড়া বাকি ৮টি কোম্পানি দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত বন্ধের তালিকায় রয়েছে- ফাস ফাইন্যান্স, প্রিমিয়ার লিজিং, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড। আর বন্ধের তালিকা থেকে আর্থিক সূচকে উন্নতির সুযোগ পেয়েছে জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স ও বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি) লিমিটেড।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বন্ধের তালিকায় থাকা ফাস ফাইন্যান্সের শেয়ারদর আজ ৮ পয়সা বা ১০ শতাংশ কমে ৬৯ পয়সায় এবং প্রিমিয়ার লিজিংয়ের দর ৭ পয়সা বা ১০ শতাংশ কমে ৬৩ পয়সায় নেমেছে। এছাড়া, ফারইস্ট ফাইন্যান্সের দর ৮ পয়সা বা প্রায় ১০ শতাংশ কমে ৭৪ পয়সায়, পিপলস লিজিংয়ের দর ৮ পয়সা বা ১০ শতাংশ কমে ৬৯ পয়সায় এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের দর ৭ পয়সা বা প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে ৬৬ পয়সায় নেমেছে। এই পাঁচটি প্রতিষ্ঠানেই আজ সামান্য পরিমাণ শেয়ার হাতবদল হয়েছে। অর্থাৎ বড় দরপতন হওয়া সত্ত্বেও বন্ধ হওয়ার তালিকায় থাকায় প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার কিনতে কেউ আগ্রহ দেখাচ্ছে না।
এদিকে, জিএসপি ফাইন্যান্সের শেয়ারদর আজ ১০ পয়সা বা প্রায় ৬ শতাংশ বেড়ে ১ টাকা ৯০ পয়সা বেড়েছে। এছাড়া, প্রাইম ফাইন্যান্সে ১০ পয়সা বা প্রায় ৮ শতাংশ বেড়ে ১ টাকা ৪০...
তৃতীয় কার্যদিবসে কমেছে পুঁজিবাজারে লেনদেন
সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) পুঁজিবাজারে সূচকের মিশ্র প্রবণতার মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ও অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেন কমেছে।
ডিএসই ও সিএসই সূত্রে এতথ্য জানা গেছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, মঙ্গলবার ডিএসই প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৩ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ১২৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে শরিয়াহ সূচক ৪ পয়েন্ট কমে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ২ পয়েন্ট বেড়ে যথাক্রমে ১১৪৫ ও ১৮৯৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
এ দিন ডিএসইতে ৩২৮ কোটি ৩১ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবসে চেয়ে প্রায় ১৬ কোটি টাকার লেনদেন কমেছে। আগের দিন ডিএসইতে ৩৪৪ কোটি ৩ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছিল।
মঙ্গলবার ডিএসইতে ৪০২টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। এগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে ১৭৩টি কোম্পানির, কমেছে ১৫২টি এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৭৭টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটের দর।
এদিন লেনদেনের শীর্ষে থাকা ১০ প্রতিষ্ঠান হলো-ব্রাক ব্যাংক, এডিএন টেলিকম, ওরিয়ন ইনফিউশন, অগ্নি সিস্টেম, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, ড্রাগন সোয়েটার, ডোমেনেজ, মালেক স্পিনিং, খুলনা প্রিন্টিং ও লাভেলো আইসক্রিম।
অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই এদিন ২১ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১৪ হাজার ৩৭৫ পয়েন্টে। এদিন সিএসইতে হাত বদল হওয়া ১৮৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শেয়ার দর বেড়েছে ৮৬টির, কমেছে ৭০টি এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩০টির কোম্পানির শেয়ারদর।
মঙ্গলবার সিএসইতে ১০ কোটি ২৮ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। যা আগের দিনের চেয়ে প্রায় ২২ কোটি টাকার লেনদেন কমেছে। আগের দিন সিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ৩২ কোটি ২ লাখ টাকা।
মূল্যসূচকের ব্যাপক পতনে চলছে লেনদেন
দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার (২৭ অক্টোবর) মূল্যসূচকের পতনের মধ্য দিয়ে চলছে লেনদেন। কমেছে বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারদর। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র মতে, আজ ডিএসইর লেনদেন শুরুর প্রথম দেড় ঘণ্টায় অর্থাৎ বেলা ১১ টা ৩০ পর্যন্ত ডিএসইর প্রধান সূচক বা ‘ডিএসইএক্স’ ৭৭ দশমিক ৭৬ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫ হাজার ০৩৬ পয়েন্টে।
শরিয়াহ সূচক বা ‘ডিএসইএস’ ১৯ দশমিক ০০৪৯ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১২৫ পয়েন্টে আর ‘ডিএস-৩০’ সূচক ২৫ দশমিক ৫২ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৫৩ পয়েন্টে।
বিনিয়োগকারীরা হারালো আরো ১২ হাজার কোটি টাকা
হাসিনা সরকারের আমলে পতনে নিমজ্জিত থাকা শেয়ারবাজারে গতি ফিরাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইস) নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। বাজারকে উত্থানে ফিরাতে নতুন চেয়ারম্যান দফায় দফায় বাজার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে গ্রুপ কোম্পানিগুলোর সাথেও আলোচনা করছে। তবে এতেও স্বস্তি ফিরছে না শেয়ারবাজারে। সর্বশেষ বিদায়ী সপ্তাহে শেয়ারবাজার থেকে বিনিয়োগকারীরা হারালো আরো ১২ হাজার কোটি টাকা।
সূচকের বড় পতনের মধ্যে দিয়ে শেষ হয়েছে বিদায়ী (২০ থেকে ২৪ অক্টোবর) সপ্তাহের লেনদেন। সপ্তাহটিতে শেয়ারবাজার থেকে বিনিয়োগকারীরা ১২ হাজার কোটি টাকার বেশি মূলধন হারিয়েছে। সপ্তাহটিতে শেয়ারবাজারের সব সূচক কমেছে। সূচক কমলেও টাকার পরিমাণে লেনদেন বেড়েছে শেয়ারবাজারে। ডিএসইর সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
বিদায়ী সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৫৬ হাজার ৮৬৮ কোটি ৬২ লাখ টাকা।
আর বিদায়ী সপ্তাহের আগের সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে ডিএসইর বাজার মূলধন ছিল ৬ লাখ ৬৯ হাজার ১১৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকা টাকা।
অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন কমেছে ১২ হাজার ২৯৭ কোটি ৯১ লাখ টাকা।
বিদায়ী সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৬৯৩ কোটি ৪২ লাখ টাকা।
আর বিদায়ী সপ্তাহের আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ২৭২ কোটি ২ লাখ টাকার।
অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে লেনদেন বেড়েছে ৪২১ কোটি ৪০ লাখ টাকা।
সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৪৩.৩৮ পয়েন্ট বা ২.৭৩ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ১১৪ পয়েন্টে।
অপর সূচকগুলোর মধ্যে ডিএসই-৩০ সূচক ৫১.২২ পয়েন্ট বা ২.৬৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৭৯ পয়েন্টে।
ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৩০.১২ পয়েন্ট বা ২.৫৭ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১১৪ পয়েন্টে
ডিএসএমইএক্স সূচক (এসএমই ইনডেক্স) ৬১.৬৬ পয়েন্ট বা ৫.৫৪ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫১ পয়েন্টে।
বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ৩৯৬টি...
পুঁজিবাজার পড়ছেই, সব তদারক সংস্থা নিশ্চুপ -নির্লিপ্ত
গণঅভ্যুত্থানে সরকার পতন হলেও ৬ আগস্ট থেকে টানা চার কর্মদিবস পুঁজিবাজারে হয়নি শেয়ারের দর পতন। উল্টো ঊর্ধ্বমুখী ছিল শেয়ারদর। বিনিয়োগকারীও বসেছিলেন নড়চড়ে। এর পর সেই পুরোনো গল্প! পতনের ধারা, যা থামার নামগন্ধ নেই। গেল আড়াই মাসে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৯৫ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারই হারিয়েছে দর। দিনের পর দিন পুঁজি হারিয়ে বিনিয়োগকারীরা চোখে দেখছেন আঁধার; ক্ষোভে ফুঁসছেন। অথচ স্টক এক্সচেঞ্জ, নিয়ন্ত্রক সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলরা কুম্ভকর্ণের ঘুমে! তাদের এমন নির্লিপ্ত আচরণে বোঝার উপায় নেই, গভীর সংকটের গ্যাঁড়াকলে পড়েছে শেয়ারবাজার।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের পুঁজিবাজার মানেই দর পতনের ইতিহাস। তবে যখন রাষ্ট্র ব্যবস্থায় সংস্কার চলছে, অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে ওঠার আভাস মিলছে, তখন এমন দর পতন মেনে নেওয়া যায় না। অর্থনীতির বড় সংকটের মধ্যে থেকেও সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার সহায়তায় শ্রীলঙ্কার শেয়ারবাজার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। পাকিস্তানের পুঁজিবাজার উঠেছে রেকর্ড উচ্চতায়। অথচ দেশের শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীরা পুঁজি রক্ষায় প্রতিদিন করছেন হাপিত্যেশ।
প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাম্প্রতিক সময়ের লেনদেন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১২ আগস্ট থেকে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আড়াই মাসে তালিকাভুক্ত ৩৬০ কোম্পানির শেয়ার ও ৩৭ মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৩৭৮টি দর হারিয়েছে। এর মধ্যে ২০ থেকে ৭০ শতাংশ দর হারিয়েছে ২৭১ শেয়ার। গত এক বছরের সর্বনিম্ন দরে বা এর চেয়ে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ ওপরে অবস্থান করা শেয়ার সংখ্যা বেড়ে ১৮৬টিতে উন্নীত হয়েছে। এসব শেয়ার যে কোনো দিন বছরের সর্বনিম্ন দরে নেমে আসতে পারে। শেয়ারের এমন পতনের চিহ্ন রয়েছে মূল্যসূচকে। ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স গত আড়াই মাসে ৯০১ পয়েন্ট হারিয়ে ৬০১৫ থেকে ৫১১৪ পয়েন্টে নেমেছে। সূচক পতনের হার ১৫ শতাংশ। গত ৫০ কর্মদিবসের মধ্যে ১৮ দিন সূচক বেড়েছিল ৭২৩ পয়েন্ট। বাকি ৩২ দিনে ১ হাজার ৬২৪ পয়েন্ট খুইয়েছে।
অথচ...
ডিএসইর সূচক সাড়ে চার মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন
শেয়ারবাজারের পতন থামছেই না। সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে গতকাল বৃহস্পতিবারও দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জে বড় ধরনের দরপতন হয়েছে। ভালো ভালো কোম্পানির শেয়ারের দর হারানোর ফলে এই দরপতন হয়।
প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স এদিন ৫৫ পয়েন্ট বা ১ শতাংশ কমে নেমে এসেছে ৫ হাজার ১১৪ পয়েন্টে। গত প্রায় সাড়ে চার মাসের মধ্যে এটিই ডিএসইএক্সের সর্বনিম্ন অবস্থান। এর আগে সর্বশেষ গত ১২ জুন ডিএসইএক্স সূচকটি ৫ হাজার ৮৩ পয়েন্টের সর্বনিম্ন অবস্থানে ছিল। অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচকটিও গতকাল ২০০ পয়েন্ট বা সোয়া ২ শতাংশের বেশি কমেছে।
শেয়ারবাজারের শীর্ষস্থানীয় ব্রোকারেজ হাউস লঙ্কাবাংলা সিকিউরিটিজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেয়ারবাজারে গতকালের বড় ধরনের দরপতনের পেছনে বড় ভূমিকা ছিল স্কয়ার ফার্মা, ইসলামী ব্যাংক, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানি বা বিএটিবিসি, গ্রামীণফোন ও রেনাটার। এই পাঁচ কোম্পানির শেয়ারের বাজারমূল্য কমায় সম্মিলিতভাবে ডিএসইএক্স সূচকটি কমেছে ৪১ পয়েন্ট। এর মধ্যে স্কয়ার ফার্মার শেয়ারের বাজারমূল্য ৭ টাকা কমে যাওয়ায় তাতে সূচকটি কমেছে ১৮ পয়েন্ট। এককভাবে সূচকের পতনে স্কয়ার ফার্মার শেয়ারের দরপতনই গতকালের বাজারে সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক ভূমিকা রেখেছে।
বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, টানা দরপতনের কারণে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আস্থাহীনতায় ভুগছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরাও অনেকটা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। এর ফলে বাজারে ক্রেতার সংকট দেখা দিয়েছে। তার বিপরীতে প্রতিদিনই ঋণগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশের শেয়ার জোরপূর্বক বিক্রি বা ফোর্সড সেলের আওতায় পড়ছে। বাজার যত নিচে নামছে, ফোর্সড সেলের চাপও তত বাড়ছে।
শেয়ারের দাম নির্দিষ্ট একটি সীমার নিচে নেমে গেলে ঋণ সমন্বয়ের জন্য ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো শেয়ার বিক্রি করে দেয়। শেয়ারবাজারে এটি ফোর্সড সেল হিসেবে পরিচিত।
এদিকে বাজারে ক্রেতার চেয়ে বিক্রেতা বেশি হওয়ায় দরপতনের পাশাপাশি লেনদেনের পরিমাণও কমছে। ঢাকার বাজারে গতকাল লেনদেনের...
বাড়তি কর পরিশোধে বেশি আয়ের পরও কম মুনাফা আইডিএলসির
চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে কর–পরবর্তী মুনাফা করেছে ৩৫ কোটি টাকা আইডিএলসি ফাইন্যান্স। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ব্যাংকবহির্ভূত এই আর্থিক প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা এক কোটি টাকা বেড়েছে। গত বছরের প্রথম ৩ মাসে প্রতিষ্ঠানটি মুনাফা করেছিল ৩৪ কোটি টাকা।
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি হিসেবে আইডিএলসি আজ সোমবার চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকের যে আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, সেখান থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে শেয়ারধারীদের মুনাফা এ তথ্য জানিয়েছে কোম্পানিটি।
আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটি গত বছরের একই সময়ে তুলনায় ভালো ব্যবসা করেছে। এ সময়ে কোম্পানিটির সুদ আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি বিনিয়োগের বিপরীতেও ভালো আয় করেছে। আবার ঋণের বিপরীতে নিরাপত্তা সঞ্চিতি বা প্রভিশনিংও কমেছে। এতে প্রতিষ্ঠানটির আয় গত বছরের একই সময়ের চেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে। কিন্তু কর বাবদ খরচ বেড়ে যাওয়ায় আয়ের তুলনায় মুনাফা ততটা বাড়েনি।
আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে আইডিএলসি ঋণের সুদ বাবদ ৩৩৪ কোটি টাকা আয় করেছে। গত বছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ২৯৯ কোটি টাকা। সেই হিসাবে ১ বছরের ব্যবধানে প্রতিষ্ঠানটির সুদ বাবদ আয় ৩৫ কোটি টাকা বা প্রায় ১২ শতাংশ বেড়েছে। সুদ আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি আমানত ও ঋণের বিপরীতে সুদ পরিশোধও বেড়েছে। গত জানুয়ারি–মার্চ সময়কালে প্রতিষ্ঠানটি আমানত ও ঋণের সুদ বাবদ পরিশোধ করেছে ২০৬ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ১৭৩ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে এ খাতে আইডিএলসির খরচ বেড়েছে ৩৩ কোটি টাকা।
সাধারণত ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যক্তি আমানতের পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক আমানত ও ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে বেশি সুদে তা বিতরণের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করে। এ কারণে ব্যাংকের তুলনায় ঋণ ও...
বাটা শুর মুনাফা ৩৫ শতাংশ বেড়েছে, ১০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ব্যবসা
চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ২৬৭ কোটি টাকার জুতা বিক্রি করেছে বহুজাতিক কোম্পানি বাটা শু। জুতার বাইরে কোম্পানিটি প্রায় ১৩ কোটি টাকার অন্যান্য সরঞ্জাম বা অ্যাকসেসরিজ বিক্রি করেছে। সব মিলিয়ে এ তিন মাসে জুতা ও অ্যাকসেসরিজ বিক্রি করে ২৮০ কোটি টাকা আয় করেছে বাটা শু।
তিন মাসের ব্যবসা বা আয় বিবেচনায় গত ১০ বছরের মধ্যে বাটা শু সর্বোচ্চ ব্যবসা করেছে চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে। এমনকি তিন মাসের বিবেচনায় গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মুনাফাও করেছে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে। উল্লেখিত সময়ে কোম্পানিটি মুনাফা করেছে ১৮ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ১৪ কোটি টাকা। সেই হিসাবে কোম্পানিটির মুনাফা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৫ শতাংশ বা পৌনে ৫ কোটি টাকা বেড়েছে।
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি হিসেবে বাটা শু গতকাল মঙ্গলবার তাদের চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ) যে আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, সেখান থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। কোম্পানিটির ওয়েবসাইটের পাশাপাশি আর্থিক প্রতিবেদনের এ তথ্য স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদেরও জানিয়েছে কোম্পানিটি।
আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে বাটা শু গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৩৪ কোটি টাকার বেশি জুতা বিক্রি করেছে। পাশাপাশি অ্যাকসেসরিজ বিক্রিও বেড়েছে প্রায় দেড় কোটি টাকার। গত বছরের প্রথম তিন মাসে বাটা শু ২৩৩ কোটি টাকার জুতা বিক্রি করেছিল। আর অ্যাকসেসরিজ সামগ্রী বিক্রি করেছিল ১১ কোটি ৩৪ লাখ টাকার। গত বছরের চেয়ে এ বছর জুতা ও অ্যাকসেসরিজ বিক্রি বৃদ্ধির জন্য চারটি কারণের কথা জানিয়েছে কোম্পানিটি। বাটা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জানুয়ারি-মার্চ সময়ে স্কুল খোলা থাকায় স্কুলের জন্য ব্যবহৃত জুতা বিক্রি বেড়েছে। এ ছাড়া শীত মৌসুম ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বাড়তি বিক্রির সুবিধাও এ সময়ের মধ্যে পেয়েছে...
আইপিডিসির মুনাফা বাড়ল যে কারণে
চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে (জানুয়ারি-মার্চ) ১ কোটি ৮৩ লাখ টাকা কর–পরবর্তী মুনাফা করেছে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইপিডিসি ফাইন্যান্স। গত বছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৫১ লাখ টাকা। সেই হিসাবে গত বছরের চেয়ে এ বছরের প্রথম তিন মাসে আর্থিক প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা ৩২ লাখ টাকা বা ২১ শতাংশ বেড়েছে।আইপিডিসি ফাইন্যান্স আজ রোববার প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে তাদের মুনাফার এ তথ্য বিনিয়োগকারীদের জানিয়েছে। পাশাপাশি তারা চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্যও প্রকাশ করেছে। ওই আর্থিক প্রতিবেদন থেকে মুনাফার এ তথ্য পাওয়া গেছে।
আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, কোম্পানিটির পরিচালন আয় কমে যাওয়ার পরও মুনাফা বেড়েছে মূলত ঋণের বিপরীতে নিরাপত্তা সঞ্চিতি বা প্রভিশনিং কমে যাওয়ায়। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে আইপিডিসি ফাইন্যান্স তাদের ঋণের বিপরীতে প্রভিশনিং করেছে ১৮ কোটি ২২ লাখ টাকা। গত বছরের একই সময়ে প্রভিশনিংয়ের পরিমাণ ছিল সাড়ে ২৩ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এ বছর কোম্পানিটির প্রভিশনিং বাবদ খরচ কমেছে সোয়া ৫ কোটি টাকার বেশি। এ কারণে মুনাফা বেড়েছে।
আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে আইপিডিসির পরিচালন আয় ছিল ৬৬ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে যা ছিল ৭১ কোটি টাকা। কোম্পানিটির আমানত ও ঋণের সুদ পরিশোধ বাবদ খরচ বেড়ে যাওয়ায় পরিচালন আয় কমে গেছে। গত জানুয়ারি-মার্চ সময়ে আইপিডিসি আমানত ও ঋণের সুদ বাবদ পরিশোধ করেছে ১৪৮ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ১১৩ কোটি টাকা। সেই হিসাবে গত বছরের চেয়ে এই খাতে প্রতিষ্ঠানটির খরচ বেড়েছে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা। গত জুলাই থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণের বেঁধে দেওয়া সুদহার তুলে নেয়। এতে আর্থিক খাতে ঋণের সুদ বেড়ে যায়। ঋণের সুদ...
শেয়ার যত ভালো, দাম তত কম
কয়েক বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন দামে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর শেয়ার।
গ্রামীণফোন, স্কয়ার ফার্মা, রেনেটা, লাফার্জহোলসিম, বীকন ফার্মা ও পূবালী ব্যাংকের শেয়ারের দাম দুই বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।
ভালো মৌলভিত্তির ১০ কোম্পানির শেয়ারের দরপতনে সূচক কমেছে ৩০ পয়েন্ট।
আবারও বড় ধরনের দরপতন চলছে দেশের শেয়ারবাজারে। গত দুই দিনে লেনদেন হওয়া বেশির ভাগ শেয়ারেরই দাম কমেছে। তাতে অনিবার্যভাবে সূচক যেমন কমেছে, তেমনি লেনদেন কমে আবারও ৫০০ কোটি টাকার কাছাকাছি নেমে এসেছে।
গতকাল বুধবার দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫৮ পয়েন্ট বা ১ শতাংশ কমেছে। এ নিয়ে গত দুই দিনে এ সূচকের ১৪০ পয়েন্ট বা প্রায় আড়াই শতাংশ পতন হয়েছে। তাতে সূচকটি কমে ৫ হাজার ৫২৭ পয়েন্টে নেমে গেছে। গত ২৫ এপ্রিলের পর এটিই ডিএসইএক্স সূচকের সর্বনিম্ন অবস্থান।
অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক গতকাল ১০৫ পয়েন্ট বা পৌনে ১ শতাংশের মতো কমেছে। তবে চট্টগ্রামের বাজারে ঢাকার মতো লেনদেনে বড় পতন ঘটেনি।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমে যেখানে নেমেছে (সাড়ে ৫ হাজার পয়েন্ট) সেটিকে একটি মনস্তাত্ত্বিক সীমাও বলা যায়। সাধারণত শেয়ারসূচক এ ধরনের মনস্তাত্ত্বিক সীমার নিচে বা আশপাশে নেমে এলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে ভীতি দেখা দেয়। আতঙ্কে তাঁদের মধ্যে শেয়ার বিক্রি করে বাজার ছেড়ে যাওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। তখন ভালোমন্দ–নির্বিশেষে হাতে থাকা সব শেয়ার বিক্রি করে দেন অনেক বিনিয়োগকারী।
গতকালও বিনিয়োগকারীদের ভালো শেয়ার বিক্রি করে দেওয়ার প্রবণতা দেখা গেছে। যে কারণে এদিন ভালো মৌলভিত্তির শেয়ারের দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। শীর্ষস্থানীয় ব্রোকারেজ হাউস লংকাবাংলা সিকিউরিটিজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকার বাজারে গতকাল সূচকের বড় পতনের পেছনে বড় ভূমিকা ছিল বহুজাতিক কোম্পানি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, রেনেটা, লাফার্জহোলসিম সিমেন্ট ও গ্রামীণফোনসহ স্থানীয় স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, বীকন...
শেয়ারবাজার ছাড়লেন আরও ২ হাজার বিনিয়োগকারী
শেয়ারবাজারের টানা পতনে বাজার ছাড়ছেন বিনিয়োগকারীরা। গত সপ্তাহের ৫ কার্যদিবসে আরও ২ হাজার ১৮৮ জন বিনিয়োগকারী তাঁদের হাতে থাকা সব শেয়ার বিক্রি করে বাজার ছেড়েছেন। তার বিপরীতে অবশ্য গত সপ্তাহে ২ হাজার ১২৬ জন বিনিয়োগকারী নতুন করে বাজারে যুক্ত হয়েছেন। ফলে যত বিনিয়োগকারী বাজার ছেড়েছেন, তার সমপরিমাণ বিনিয়োগকারী নতুন করে বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) হিসাব খুলে বাজারে যুক্ত হয়েছেন।
এর আগের সপ্তাহের ৫ কার্যদিবসে ৫ হাজার ৩৫৫ জন বিনিয়োগকারী তাঁদের হাতে থাকা সব শেয়ার বিক্রি করে বাজার ছেড়েছিলেন। সেই তুলনায় গত সপ্তাহে বাজার ছেড়ে যাওয়া বিনিয়োগকারীর সংখ্যা কমে অর্ধেকে নেমেছে।
শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব ও স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে শেয়ার ধারণকারী প্রতিষ্ঠান সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড বা সিডিবিএলের তথ্য থেকে এ চিত্র পাওয়া গেছে। সিডিবিএলের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে শেয়ারবাজারে শেয়ারশূন্য বিও হিসাবের সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৭৫০টি। সপ্তাহ শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৯৩৮টিতে। অর্থাৎ সপ্তাহের ৫ কার্যদিবসে ২ হাজার ১৮৮ জন বিনিয়োগকারী তাঁদের হাতে থাকা সব শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছেন।
শেয়ারশূন্য বিও হিসাবের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় কমেছে শেয়ারসহ বিও হিসাবের সংখ্যা। গত সপ্তাহ শেষে শেয়ারবাজারে সক্রিয় তথা শেয়ারসহ বিও হিসাবের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১৩ লাখ ৩৫ হাজার ১৫২টিতে। আগের সপ্তাহে শেয়ারসহ বিও হিসাবের সংখ্যা ছিল ১৩ লাখ ৩৭ হাজার ৪৫৫টিতে। শেয়ারবাজারে যেসব বিও হিসাবে শেয়ার থাকে, সেগুলোকেই মূলত সক্রিয় বিও হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
বাজার–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, শেয়ারবাজারে টানা দরপতন চলতে থাকায় বাজার ছেড়ে যাওয়া বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বাড়ছে। গত সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে চার দিনই বাজারে সূচক কমেছে। দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গত সপ্তাহ শেষে ১৪৪ পয়েন্ট বা প্রায় আড়াই শতাংশ...
