ঈদের আগে ন্যাশনাল ব্যাংককে ১,০০০ কোটি টাকা তারল্য সহায়তা দিল বাংলাদেশ ব্যাংক
তারল্য সংকটে থাকার কারণে জরুরি তহিবিল হিসেবে ঈদের আগে বেসরকারি ন্যাশনাল ব্যাংকে ১ হাজার কোটি টাকা সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
ঈদের সময় গ্রাহকদের টাকা তোলার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সহায়তার জন্য ১১.৫ শতাংশ সুদে ৯০ দিনের জন্য ন্যাশনাল ব্যাংককে এ তারল্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধতন কর্মকর্তা টিবিএসকে নিশ্চিত করেছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, ন্যাশনাল ব্যাংক তারল্য সংকটের মধ্যে আছে। গ্রাহকদের অর্থ সময়মতো ফেরত দিতে পারছে না। এজন্য তহবিল সমস্যার মধ্যে রয়েছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে চিঠি দেয় ন্যাশনাল ব্যাংক। সেই পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ন্যাশনাল ব্যাংককে তারল্য সহায়তা দিয়েছে।
ন্যাশনাল ব্যাংকের একজন ঊর্ধতন কর্মকর্তা বলেন, ‘ক্যাশ ফ্লো ঠিক রাখার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে আবেদন করা হয়েছিল। ঈদের আগে ব্যাংকে গ্রাহকদের টাকা তোলার চাহিদা বেড়ে যায়। এজন্য এ সময় তারল্য বেশি থাকা প্রয়োজন। তাছাড়া ব্যাংকে যে পরিমাণ আমানত ও ঋণ আদায় হচ্ছে তা দিয়ে তারল্য ঘাটতি মেটানো সম্ভব হচ্ছে না।’
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যাংকগুলোকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে তারল্য সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন। তবে মূল্যস্ফীতিজনিত প্রভাব থাকায় এ সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রেও সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অভ ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) মহাপরিচালক মো. এজাজুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্ব হচ্ছে আর্থিক স্থিতিশীলতা। যে ব্যাংকগুলোর সমস্যা, সেগুলোকে তারল্য সহায়তা না দিলে সেগুলো বন্ধ হয়ে যাবে। ব্যাংক বন্ধ হয়ে গেলে তা অর্থনীতির জন্য ভালো নয়, তাতে পুরো সিস্টেম কলাপসড হয়ে যাবে। এটাও ঠিক যে এভাবে তারল্য সহায়তা দেওয়া মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে পরিপন্থি। কারণ মূল্যস্ফীতি টাইট করার জন্য যে পদ্ধতি নেওয়া হয় তা আর থাকে না। তখন মূল্যস্ফীতি বেড়ে যায়।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের আরেকজন ঊর্ধতন কর্মকর্তা বলেন, ‘ডিমান্ড প্রমিসরি’ (ডিপি) নোটের বিপরীতে ন্যাশনাল ব্যাংককে এ অর্থ সহায়তা...
বাজার মূলধন বাড়লো ৮ হাজার কোটি টাকা
গত সপ্তাহজুড়ে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনে অংশ নেওয়া যে কয়টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে, তার তিনগুণের বেশি দাম বেড়েছে। এতে ডিএসইর বাজার মূলধন ৮ হাজার কোটি টাকার ওপরে বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে মূল্য সূচক। তবে দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা কমেছে।
এর মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর টানা দুই সপ্তাহ বাজার মূলধন বাড়লো। এতে সপ্তাহের দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি বাজার মূলধন বড় অঙ্কে বেড়ে গেছে। গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ২৭৪টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৮৩টির দাম কমেছে এবং ৩২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। অর্থাৎ দাম বাড়ার তালিকায় স্থান হয়েছে ৭০ দশমিক ৪৪ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের।
দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ায় সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের লেনদেন শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ১৮ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা। যা আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৭ লাখ ১০ হাজার ৩৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন বেড়েছে ৮ হাজার ৩২৭ কোটি টাকা বা ১ দশমিক ১৭ শতাংশ। আগের সপ্তাহের বাজার মূলধন বাড়ে ১ হাজার ৬০ কোটি টাকা।
বাজার মূলধন বাড়ার পাশাপাশি গত সপ্তাহে প্রধান মূল্য সূচকও বেড়েছে। ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স সপ্তাহজুড়ে বেড়েছে ১৩৪ দশমিক ৩৪ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ৪৬ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি বাড়ে ৬৫ দশমিক ৯৯ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ২২ শতাংশ।
অপর দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক গত সপ্তাহজুড়ে বেড়েছে ৭১ দশমিক ৫৮ পয়েন্ট বা ৩ দশমিক ৪১ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি বাড়ে ৩৮ দশমিক ৯৩ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৮৯ শতাংশ।
ইসলামী শরিয়াহ ভিত্তিতে পরিচালিত কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক গত...
বন্ধের তালিকায় থাকা ৫ নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে বড় দরপতন
দেশের ৯টি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) বন্ধ বা অবসায়নের উদ্যোগ নিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে, মঙ্গলবার এর মধ্যে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক সূচকে উন্নতির সুযোগ দিয়ে বাকি ৬টিকে অবসায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নতুন করে বন্ধের তালিকায় থাকা ৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫টি দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রয়েছে। ওই পাঁচটি প্রতিষ্ঠানেই বুধবার সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ সীমায় দরপতন হয়েছে। বিপরীতে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাওয়া ৩টির দর সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ সীমায় বেড়েছে।
দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ হওয়ার আলোচনায় থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে অ্যাভিভা ফাইন্যান্স ছাড়া বাকি ৮টি কোম্পানি দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত বন্ধের তালিকায় রয়েছে- ফাস ফাইন্যান্স, প্রিমিয়ার লিজিং, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড। আর বন্ধের তালিকা থেকে আর্থিক সূচকে উন্নতির সুযোগ পেয়েছে জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স ও বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি) লিমিটেড।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বন্ধের তালিকায় থাকা ফাস ফাইন্যান্সের শেয়ারদর আজ ৮ পয়সা বা ১০ শতাংশ কমে ৬৯ পয়সায় এবং প্রিমিয়ার লিজিংয়ের দর ৭ পয়সা বা ১০ শতাংশ কমে ৬৩ পয়সায় নেমেছে। এছাড়া, ফারইস্ট ফাইন্যান্সের দর ৮ পয়সা বা প্রায় ১০ শতাংশ কমে ৭৪ পয়সায়, পিপলস লিজিংয়ের দর ৮ পয়সা বা ১০ শতাংশ কমে ৬৯ পয়সায় এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের দর ৭ পয়সা বা প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে ৬৬ পয়সায় নেমেছে। এই পাঁচটি প্রতিষ্ঠানেই আজ সামান্য পরিমাণ শেয়ার হাতবদল হয়েছে। অর্থাৎ বড় দরপতন হওয়া সত্ত্বেও বন্ধ হওয়ার তালিকায় থাকায় প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার কিনতে কেউ আগ্রহ দেখাচ্ছে না।
এদিকে, জিএসপি ফাইন্যান্সের শেয়ারদর আজ ১০ পয়সা বা প্রায় ৬ শতাংশ বেড়ে ১ টাকা ৯০ পয়সা বেড়েছে। এছাড়া, প্রাইম ফাইন্যান্সে ১০ পয়সা বা প্রায় ৮ শতাংশ বেড়ে ১ টাকা ৪০...
৬ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবসায়ন চূড়ান্ত, তিনটি পেল শেষ সুযোগ
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে আমানতকারীর টাকা ফেরত দিতে না পারা, উচ্চ খেলাপি ঋণ এবং মূলধন ঘাটতি— এই তিন সূচককে ভিত্তি ধরে প্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘অব্যবহারযোগ্য’ হিসেবে ৯টি এনবিএফআই চিহ্নিত করা হয়েছিল।
এর মধ্যে ফাস ফাইন্যান্স, প্রিমিয়ার লিজিং, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, অ্যাভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিং— এই ছয় প্রতিষ্ঠানের অবসায়ন প্রক্রিয়া শুরু করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
অন্যদিকে জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স ও বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি)— এই তিন প্রতিষ্ঠানকে এখনই বন্ধ করা হচ্ছে না। আর্থিক অবস্থার উন্নতি প্রমাণ করতে তাদের নির্ধারিত সময় দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্বল শাসনের কারণে এসব প্রতিষ্ঠানে খেলাপি ঋণের হার ৭৫ থেকে ৯৮ শতাংশে পৌঁছেছে। এর আগে গত বছরের মে মাসে ২০টি এনবিএফআইকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়। সন্তোষজনক পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা দিতে না পারায় নয়টি প্রতিষ্ঠানকে অবসায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
অবসায়নের আগে গত সপ্তাহে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে দেওয়া কর্মপরিকল্পনা পর্যালোচনা করেই তিন প্রতিষ্ঠানকে সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক, যা বোর্ড অনুমোদন করেছে।
খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, আগের সরকারের সময় ব্যাপক অনিয়ম ও আর্থিক কেলেঙ্কারির ফলে এসব এনবিএফআই কার্যত ধ্বংসের মুখে পড়ে। আলোচিত পিকে হালদারের বিরুদ্ধে পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, ফাস ফাইন্যান্স ও বিআইএফসি থেকে অন্তত সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানান, অবসায়নের তালিকায় থাকা নয়টি রুগ্ন এনবিএফআইয়ের ব্যক্তি আমানতকারীরা আগামী ফেব্রুয়ারিতে রমজানের আগেই তাদের মূল টাকা ফেরত পাবেন। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সম্পদ মূল্যায়ন...
মন্দায়ও শেয়ারবাজারে কারসাজি, অগ্রগতি নেই তদন্ত কমিটির
বিগত সরকারের দীর্ঘ ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে দেশের বিভিন্ন খাতে সর্বোচ্চ দুর্নীতি হয়েছে। বাদ যায়নি দেশের শেয়ারবাজারও। কারসাজি আর অনিয়মের মাধ্যমে শেয়ার দর বাড়িয়ে এখাত থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা বের করে নিয়েছে কারসাজিকারিরা।
সরকার পতনের পর নতুন সরকার ক্ষমতায় এসে বিভিন্ন খাতের মতো শেয়ারবাজারের দুর্নীতি আর অনিয়ম খুঁজে বের করতে গঠন করেছে কমিটি। সময় বেঁধে দেয়া হয় প্রতিবেদন জমা দিতে। তবে কয়েক দফা সময় বাড়িয়েও এখন পর্যন্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি গঠিত কমিটি।
জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে অস্থিরতায় থাকা দেশের শেয়ারবাজারকে স্থিতিশীলতায় ফিরাতে বেক্সিমকোর দুটি কোম্পানিসহ মোট ১২টি কোম্পানির অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বিএসইসি পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত কমিটি গঠন করে। সেই কমিটিকে প্রথম ধাপে ৬০ দিনের সময় বেঁধে দেওয়া হলেও তদন্ত প্রতিবেদনের কোনো অগ্রগতি হয়নি। যা বাজার সংশ্লিষ্টসহ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেরা রিসোর্সেস ইন্টারন্যাশনালের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এবং কনসালট্যান্ট জিয়া উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের কমিটিতে রয়েছেন ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর স্পেশালিস্ট ইয়াওয়ার সাইদ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক সদস্য মো. শফিকুর রহমান, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. জিশান হায়দার ও বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক মো. আনোয়ারুল ইসলাম।
শীর্ষস্থানীয় শিল্পগ্রুপ বেক্সিমকো গ্রিন-সুকুক আল ইসতিসনা, আইএফআইসি গ্রানটিড শেরপুর টাউনশিপ গ্রিন জিরো কুপন বন্ড, বেস্ট হোল্ডিংস লিমিটেড, সোনালী পেপার অ্যান্ড বোর্ড মিলস লিমিটেড, ফরচুন সুজ লিমিটেড, আল-আমিন কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ, রিং শাইন টেক্সটাইল লিমিটেড, ন্যাশনাল ফাইন্যান্স, একমি পেস্টিসাইডস লিমিটেড, কোয়েস্ট বিডিসি লিমিটেড (পূর্বে পদ্মা প্রিন্টার্স অ্যান্ড কালারস লিমিটেড), কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এবং এমারেল্ড ওয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড শেয়ার অধিগ্রহণ/হস্তান্তর, মূল্য সংবেদনশীল তথ্য সরবরাহ, সেকেন্ডারি মার্কেটে অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি এবং এ-সংক্রান্ত শেয়ারবাজারের যাবতীয় অনিয়ম ও কারসাজির...
আজ দর বৃদ্ধির শীর্ষে ১০ শেয়ার
দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস আজ মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) লেনদেনে অংশ নেওয়া ৪০২ টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৭৩ টির দর বেড়েছে। আজ সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে ডেল্টা স্পিনার্স- এর।
এদিন কোম্পানিটির দর আগের দিনের তুলনায় ৫০ পয়সা বা ১০.০০ শতাংশ বেড়েছে। যার ফলে ডিএসইর দর বৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় প্রথম স্থানে স্থান করে নিয়েছে কোম্পানিটির শেয়ার।
দর বৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা তাল্লু স্পিনিং এর শেয়ার দর বেড়েছে আগের দিনের তুলনায় ৫০ পয়সা বা ১০.০০ শতাংশ।
আর ১ টাকা ২০ পয়সা বা ৯.৯২ শতাংশ দর বৃদ্ধি হওয়ায় শীর্ষ তালিকার তৃতীয় স্থানে জায়গা নিয়েছে খুলনা পাওয়ার ।
এছাড়া, আজ ডিএসইতে দর বৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় থাকা অন্যান্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে- ম্যাকসন স্পিনিং ৯.৩৭ শতাংশ, রিজেন্ট টেক্সটাইল মিলস ৮.১১ শতাংশ, সি অ্যান্ড এ টেক্সটাইল ৭.১৪ শতাংশ, জেনারেশন নেক্সট ৬.৯০ শতাংশ, ওইমেক্স ইলেক্ট্রোড ৬.৮৭ শতাংশ, চার্টার্ড লাইফ ইন্সুরেন্স ৬.৪০ শতাংশ ও রেনউইক যজ্ঞেশ্বর ৫.৯৬ শতাংশ দর বেড়েছে।
আজ দর পতনের শীর্ষে ১০ শেয়ার
দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস আজ মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) লেনদেনে অংশ নেওয়া ৪০২ টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৫২ টির দর কমেছে।। আজ সবচেয়ে বেশি দর কমেছে এডিএন টেলিকম এর
এদিন কোম্পানিটির শেয়ার দর আগের দিনের তুলনায় ১০ টাকা ৬০ পয়সা বা ৯.৭৮ শতাংশ কমেছে। যার ফলে ডিএসইর দর পতনের শীর্ষ তালিকায় প্রথম স্থানে স্থান নিয়েছে এই কোম্পানির শেয়ার। দর পতনের শীর্ষ তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা বে লিজিং এর দর কমেছে আগের দিনের তুলনায় ৪০ পয়সা বা ৬.১৫ শতাংশ। আর ৭০ পয়সা বা ৫.৬০ শতাংশ দর কমে যাওয়ায় পতনের শীর্ষ তালিকার তৃতীয় স্থানে জায়গা নিয়েছে সেন্ট্রাল ফার্মাসিউটিক্যাল
এছাড়া, আজ ডিএসইতে দর পতনের শীর্ষ তালিকায় থাকা অন্যান্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে- লিব্রা ইনফিউশন ৫.৩৮ শতাংশ, মিঠুন নিটিং ৫.৩৩ শতাংশ, সিঙ্গার বিডি ৫.১৪ শতাংশ, বিডি থাই ফুড ৫.০৪ শতাংশ, মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ ৪.৫৮ শতাংশ, প্রাইম টেক্সটাইল ৪.১৭ শতাংশ এবং ইসলামীব্যাংক ৩.৭৮ শতাংশ কমেছে।
পুঁজিবাজারে বিশেষ তহবিলের মেয়াদ বাড়ানোর সুপারিশ
পুঁজিবাজারকে স্থিতিশীল করতে এবং বাজারের তারল্য প্রবাহ বাড়াতে বিশেষ তহবিলের সময়সীমা ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে চিঠি দিয়েছে স্টক ব্রোকারদের সংগঠন ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)।
মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বরাবর সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলামের সই করা এ চিঠি দেওয়া হয়।ডিবিএ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২০ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি একটি সার্কুলারের মাধ্যমে তফসিলি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং পুঁজিবাজার মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান ব্রোকারেজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোকে পুঁজিবাজারে তাদের নিজস্ব পোর্টফোলিওতে বিনিয়োগের জন্য একটি বিশেষ তহবিল দেওয়ার নির্দেশনা জারি করে। এর আকার প্রতিটি তফসিলি ব্যাংকের জন্য ২০০ কোটি টাকায় সীমাবদ্ধ ছিল। তহবিলের মেয়াদ ৯ ফেব্রুয়ারি শেষ হতে চলেছে।
এই বিশেষ তহবিলের সময়সীমা ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়িয়ে এর আকার প্রতিটি তফসিলি ব্যাংকের জন্য ২০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ কোটি টাকা করার সুপারিশ জানানো হয়েছে চিঠিতে।
চিঠিতে ডিবিএর পক্ষে থেকে বলা হয়, বাংলাদেশের পুঁজিবাজার একটি চ্যালেঞ্জিং সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ২০২১ সালের শেষ থেকে বাজারে দীর্ঘ মন্দা বিরাজ করছে। এতে ইক্যুইটি বাজার মূলধন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এ মন্দা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী (যেমন, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিমা কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড) এবং বাজার মধ্যস্থতাকারী, স্টক-ব্রোকার এবং অন্যান্য অংশীদারসহ ২০ লাখেরও বেশি বিনিয়োগকারীকে প্রভাবিত করেছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, এ তহবিলের আওতায় অনেক স্বনামধন্য তফসিলি ব্যাংক পুঁজিবাজারে তাদের নিজস্ব পোর্টফোলিওতে বিনিয়োগ করেছে। বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে তাদের পোর্টফোলিও বিনিয়োগ ৪০ শতাংশ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে আছে। বর্তমান মুহূর্তে এ ধরনের তহবিল বন্ধ করলে পোর্টফোলিও অ্যাকাউন্টে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হবে এবং বিনিয়োগকারীসহ পুঁজিবাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এমন অবস্থায় বাজার প্রেক্ষাপট...
তৃতীয় কার্যদিবসে কমেছে পুঁজিবাজারে লেনদেন
সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) পুঁজিবাজারে সূচকের মিশ্র প্রবণতার মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ও অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেন কমেছে।
ডিএসই ও সিএসই সূত্রে এতথ্য জানা গেছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, মঙ্গলবার ডিএসই প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৩ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ১২৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে শরিয়াহ সূচক ৪ পয়েন্ট কমে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ২ পয়েন্ট বেড়ে যথাক্রমে ১১৪৫ ও ১৮৯৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
এ দিন ডিএসইতে ৩২৮ কোটি ৩১ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবসে চেয়ে প্রায় ১৬ কোটি টাকার লেনদেন কমেছে। আগের দিন ডিএসইতে ৩৪৪ কোটি ৩ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছিল।
মঙ্গলবার ডিএসইতে ৪০২টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। এগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে ১৭৩টি কোম্পানির, কমেছে ১৫২টি এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৭৭টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটের দর।
এদিন লেনদেনের শীর্ষে থাকা ১০ প্রতিষ্ঠান হলো-ব্রাক ব্যাংক, এডিএন টেলিকম, ওরিয়ন ইনফিউশন, অগ্নি সিস্টেম, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, ড্রাগন সোয়েটার, ডোমেনেজ, মালেক স্পিনিং, খুলনা প্রিন্টিং ও লাভেলো আইসক্রিম।
অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই এদিন ২১ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১৪ হাজার ৩৭৫ পয়েন্টে। এদিন সিএসইতে হাত বদল হওয়া ১৮৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শেয়ার দর বেড়েছে ৮৬টির, কমেছে ৭০টি এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩০টির কোম্পানির শেয়ারদর।
মঙ্গলবার সিএসইতে ১০ কোটি ২৮ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। যা আগের দিনের চেয়ে প্রায় ২২ কোটি টাকার লেনদেন কমেছে। আগের দিন সিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ৩২ কোটি ২ লাখ টাকা।
ফু-ওয়াং সিরামিকের পর্ষদ সভার তারিখ ঘোষণা
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ফু-ওয়াং সিরামিক ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড পর্ষদ সভার তারিখ ঘোষণা করেছে। আগামী ৩০ জানুয়ারি বিকাল সাড়ে ০৩ টায় কোম্পানিটির পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত হবে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র মতে, আলোচিত সভায় ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৪ তারিখে সমাপ্ত দ্বিতীয় প্রান্তিকের (অক্টোবর’২৪-ডিসেম্বর’২৪) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হবে। পর্ষদ এ প্রতিবেদন অনুমোদন করলে তা প্রকাশ করবে কোম্পানিটি।
বীচ হ্যাচারির পর্ষদ সভার তারিখ ঘোষণা
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বীচ হ্যাচারি লিমিটেড পর্ষদ সভার তারিখ ঘোষণা করেছে। আগামী ৩০ জানুয়ারি বিকাল সাড়ে ০৩ টায় কোম্পানিটির পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত হবে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র মতে, আলোচিত সভায় ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৪ তারিখে সমাপ্ত দ্বিতীয় প্রান্তিকের (অক্টোবর’২৪-ডিসেম্বর’২৪) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হবে। পর্ষদ এ প্রতিবেদন অনুমোদন করলে তা প্রকাশ করবে কোম্পানিটি।
সূচকের উত্থানে চলছে লেনদেন
দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) মূল্যসূচকের উত্থানের মধ্য দিয়ে চলছে লেনদেন। বেড়েছে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর।
ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র মতে, আজ ডিএসইর লেনদেন শুরুর প্রথম ঘণ্টায় অর্থাৎ বেলা ১১ টা পর্যন্ত ডিএসইর প্রধান সূচক বা ‘ডিএসইএক্স’ ১৬ দশমিক ৪৫ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৫ হাজার ১৪৬ পয়েন্টে।
শরিয়াহ সূচক বা ‘ডিএসইএস’ ৩ দশমিক ৭৭ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৫৩ পয়েন্টে আর ‘ডিএস-৩০’ সূচক ৪ দশমিক ২১ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৯৯ পয়েন্টে।
আলোচ্য সময়ে ডিএসইতে মোট ৮৩ কোটি ৯০ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।
লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে ২৩৬ টির, কমেছে ৬২ টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৭৪ টি কোম্পানির শেয়ারদর।
