শুক্রবার, মে ২৭, ২০২২

শিগগির উৎপাদনে ফিরছে এমারেল্ড অয়েল

পুঁজিবাজার রিপোর্টঃ পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি এমারেল্ড অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড সম্পূর্ণভাবে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করতে যাচ্ছে। উৎপাদনের জন্য সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ, লাইসেন্স সংক্রান্ত ঝামেলাগুলোও মিটে গেছে অনেকটাই। কাঁচামাল মজুদ আছে, তেল উৎপাদন করে সেগুলো বাজারে সরবরাহ করতে ট্রাকও প্রস্তুত আছে। অপেক্ষা এখন গ্যাস সংযোগের। এ জন্য তিতাস গ্যাসে টাকা জমা দেয়া হয়েছে। গ্যাস সরবরাহ শুরু হলেই উৎপাদন শুরু হবে শেরপুরে ধানের কুঁড়ার তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটিতে।

২০১৭ সালে বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারিতে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়া কোম্পানিটিতে প্রাণ ফেরাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির উদ্যোগ নেয়া হয় চলতি বছরের শুরুর দিকে। নতুন পর্ষদ কোম্পানির উৎপাদনে যাওয়ার চেষ্টায় জাপানভিত্তিক মিনোরি বাংলাদেশ এমারেল্ড অয়েলে বিনিয়োগ করতে এগিয়ে আসে। এদিকে, এমারেল্ড অয়েলে বিনিয়োগ করার লক্ষ্যে কোম্পানিটির পর্ষদে সিদরাতুল মাহাবুবকে প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে মিনোরি বাংলাদেশ। কোম্পানিটির প্রায় ৮ শতাংশ শেয়ার কেনার পরে এ নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, মিনোরি বাংলাদেশ গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে কারখানাটিতে উৎপাদন শুরুর ঘোষণা দিয়েও পারেনি। এ সম্পর্কে প্রশ্নের উত্তরে পরিচালক আফজাল হোসেন বলেন, গত ২৩ জুলাই থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত লকডাউনের কারণে কোম্পানির অফিস বন্ধ ছিল। এর ফলে কোম্পানি লাইসেন্স নবায়ন করতে পারেনি। এছাড়া ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের লেনদেনের সময় পরিবর্তন হওয়ায় কোম্পানির শেয়ার লেনদেনে দেরি হয়েছে।

এসব সমস্যাগুলোর সমাধানের জন্য কোম্পানিটির আরও সময় দরকার। তাই ১ সেপ্টেম্বর থেকে উৎপাদন শুরুর অবস্থায় ফিরছে না বলে সিদ্ধান্ত জানিয়েছে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ। তবে আলোচ্য সমস্যা সমাধানের পর কোম্পানিটি উৎপাদনের শুরু করার তারিখ জানাবে।

এমারেল্ড অয়েলের ধানের কুঁড়ার তেল স্পন্দন ছয় বছর আগে দেশের বাজারে সাড়া ফেলেছিল। এবারও একই নামে তেল আনবে তারা। কোম্পানিটির বর্তমানে দিনে ৩৩০ টন রাইস ব্র্যান ইনপুট ক্যাপাসিটি রয়েছে। আর দিনে ৪৮ টন রাইস ব্র্যান অয়েল আউটপুট ক্যাপাসিটি রয়েছে। এছাড়া ২৮২ টন ডিওআরবি ক্ষমতা রয়েছে বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি।

কোম্পানির তথ্যমতে, ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এমারেল্ড অয়েল ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে লেনদেন করছে। একই সঙ্গে চার বছরের বেশি সময় ধরে কোম্পানিটির সব ধরনের ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘ সময় ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে অবস্থান করা কোম্পানিটির আর্থিক অবস্থার উন্নতি করতে ব্যর্থ হয়েছেন স্বতন্ত্র পরিচালকসহ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা।

এছাড়া কোম্পানিটি আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) করতেও ব্যর্থ হয়েছে। আর ২০১৫ সালে তালিকাভুক্তির পর থেকে টানা পাঁচ বছর কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের নগদ লভ্যাংশ দেয়নি। এখন পর্যন্ত স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত থাকা সত্ত্বেও সিকিউরিটিজ আইন যথাযথভাবে পরিপালন করছে না এবং প্রতিনিয়তই আইন লঙ্ঘন করে যাচ্ছে কোম্পানিটি। আর ২০১৬ সালের পর থেকে কোম্পানিটির ব্যর্থতার কারণে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা লভ্যাংশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

২০১৪ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ১০০ কোটি টাকা। পরিশোধিত মূলধন ৫৯ কোটি ৭১ লাখ ৪০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৩৩ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ৫ কোটি ৯৭ লাখ ১৩ হাজার ৫০০টি। এর মধ্যে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের কাছে ৩৮ দশমিক ২৬ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ১২ দশমিক ৪১ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৪৯ দমমিক ৩৩ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল কোম্পানিটির শেয়ারের সর্বশেষ দর ছিল ৩৪ টাকা ৪০ পয়সা।

spot_img

অন্যান্য সংবাদ