বুধবার, নভেম্বর 30, 2022

ফেসবুকে পুঁজিবাজার নিয়ে ভীতি ছড়িয়ে মামলার আসামি

পুঁজিবাজার ডেস্কঃ ফেসবুকে পুঁজিবাজার নিয়ে অপপ্রচারের অভিযোগে ‘বিডি স্টক ডিসকাশন’ (facebook.com/bdstocksdiscussion) নামের পেজের মডারেটর মো. আবু রমিমের বিরুদ্ধে মামলা করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। মামলায় পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতা নষ্ট ও বিনিয়োগকারীদের প্রতারিত করার উদ্দেশ্যে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। মিথ্যা তথ্য প্রচারকারী ওই পেইজের মডারেটর আবু রমিমকে শনাক্ত করে রাজধানীর শেরে বাংলা নগর থানায় মামলা করেছেন পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন-বিএসইসির সহকারী পরিচালক মাসুম বিল্লাহ।

বিএসইসির তথ্যমতে, আবু রমিমের বাড়ি ফেনীর দাগনভুঁইয়ায়। তবে থাকেন চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ এলাকার চকবাজার এলাকার ১১/বি বেভারলি হিলে।

রমিম ছাড়াও আরও একজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। আরও কয়েকজন প্রাথমিক তালিকায় রয়েছেন। তাদের কাছে পোস্টের ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। জবারের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিএসইসির দায়ের করা এজাহারে বলা হয়েছে, বিডি স্টক ডিসকাশনের মডারেটর মো. আবু রমিম শেয়ারবাজারের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার উদ্দেশ্যে/বিনিয়োগকারীদের প্রতারিত করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা তথ্য পরিবেশন করে। আবু রমিম মিথ্যা, কাল্পনিক ও বিভ্রান্তিকর পোস্ট করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে অভিযুক্ত ব্যক্তি তথা মো. আবু রমিম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ারবাজার সম্পর্কিত মিথ্যা তথ্য প্রচার করে সাধারণ জনগণের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বিএসইসি মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম বলেন, ‘অনেক দিন ধরেই একটি চক্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন অপপ্রচার চালিয়ে আসছে। এদেরকে আইনের আওতায় আনতে কমিশনও তৎপর রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘অপপ্রচার চালানোর দায়ে বিডি স্টক ডিসকাশনের মডারেটর আবু রমিমের বিরুদ্ধে শেরেবাংলা নগর থানায় এজাহার জমা দেয়া হয়েছে। রমিম ছাড়াও আরও একজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। আরও কয়েকজন প্রাথমিক তালিকায় রয়েছেন। তাদের কাছে পোস্টের ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। তার জবারের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘এটা একটা চলমান প্রক্রিয়া। আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিং টিম কাজ করছে। সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিংয়ের জন্য সফটওয়্যার নেয়া যায় কি-না সেটি বিবেচনা করা হচ্ছে। এ ছাড়াও সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ বাড়ানো হয়েছে। যাতে করে গুজব ও মিথ্যা তথ্য প্রচারের মাধ্যমে স্থিতিশীলতা নষ্ট করার চেষ্টা করলে পুঁজিবাজারের স্বার্থে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া যায়।’

কী তথ্য পরিবেশন করা হয়

আবু রমিমের একটি পোস্টে বলা হয়েছে, ‘একটি অনির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, গতদিন পাকিস্তান হারাতে আজ বাজার কমেছে- এর পিছনে বিএনপি-জামায়াত চক্রের হাত থাকতে পারে।’

নিয়ন্ত্রক সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে অনেক কুরুচিপূর্ণ লেখাও পোস্ট করা হয় ওই পেইজ থেকে। তেমনি এক পোস্টে লেখা হয়েছে, ‘শিবলী সাহেব, আপনার আইপিও প্রসব বন্ধ করেন। এটিবি ফেটেবি বাদ দিয়া মূল বাজারের দিকে মনোযোগ দিন।’

নির্দিষ্ট শেয়ার না কিনলে লোকসানে পড়তে হবে বলেও সতর্ক করা হয় ওই পেইজে। একটি পোস্টে দেখা যায়, ‘মার্কেট এটাই বুঝাতে যাচ্ছে যে, বেক্সিমকো/ওরিয়ন গ্রুপ না টিকলে এই বাজার ধরে রাখা যাবে না।’

আরেকটি পোস্টে বলা হয়, ‘পুরাই ইন্ডিয়ান চুলের মার্কেট করে দিছে, আজ সব চার্টিস ধরা!!।’

আবু রমিম তার আরেক পোস্টে বলেন, ‘আশা করা যায় আগামীকাল চেক সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনের স্থগিতাদেশ আসবে, যতক্ষণ না আসবে ততক্ষণ মাইর চলবে। যদি ট্রেড আওয়ারে আসে তবে মার্কেট ইউ টার্ন করবে এবং কোনো কারণে ট্রেড আওযারে না আসলে ট্রেড শেষে মাস্ট। যাদের ক্রয় ক্ষমতা আছে আগামীকাল তাদের জন্য অভাবিত কম দামে কেনার সুযোগ থাকবে। নেটিং এর রিস্ক না নেয়া টাই ভালো, কোনো কারণে স্থগিতাদেশ ট্রেড আওয়ারে না আসলে ধরা খেয়ে যাবেন। ইনশাআল্লাহ, আশা করি ভালো কিছু হবে।’

ওই ফেসবুকে পেজে আরও উল্লেখ করেন, ‘ইএইচএল, বিডিকম ও আরও কিছু শেয়ার নিয়ে গেম্বলিং এর দরুণ হিরুকে ৪.৫ কোটি টাকা জরিমানার নিউজটা আগামীকাল কিছু পত্রিকায় প্রকাশিত হলেও এটা নিয়ে আতঙ্কিত হবার কিছু নেই। বাজার ভালো করার জন্য সবাইকেই কম বেশি ছাড় দেইয়া হতে পারে। শুভ রাত্রি।’

মামলার এজাহারে এসব তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ‘বিডি স্টক ডিসকাশনের মডারেটর আবু রমিম শেয়ারবাজারের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার উদ্দেশ্যে বা বিনিয়োগকারীদের প্রতারিত করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা তথ্য পরিবেশন করে।’

এতে আরও বলা হয়, ‘অভিযুক্ত ব্যক্তি বে-আইনিভাবে লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে উল্লিখিত কার্যকলাপের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের প্ররোচনা ও প্রলুব্ধ করে আসছেন। শেয়ারবাজারকে প্রভাবিত করার মাধ্যমে বে-আইনি কার্যকলাপ সাধন করছেন, যা শেয়ারবাজার তথা বিনিয়োগকারী এবং সার্বিকভাবে রাষ্ট্রের স্বার্থবিরোধী কার্যক্রম।

‘এর মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের প্রতারণার জালে ফেলছে। এ ধরণের প্রতারণামূলক কার্যক্রম কেবলমাত্র ফৌজদারি অপরাধই না, এর সঙ্গে শেয়ারবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও স্থিতিশীলতা বিনষ্টের উপাদান রয়েছে।’

spot_img

অন্যান্য সংবাদ