বুধবার, অক্টোবর 5, 2022

‘প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থ পুঁজিবাজারে আনতে বাধা নেই’

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশনার অধ্যাপক ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ বলেছেন, দেশে বিপুল পরিমাণ ফান্ড রয়েছে, যা অলস পড়ে আছে। এসব অলস ফান্ড ব্যবহার করতে পারলে পুঁজিবাজার অনেক উপকৃত হবে। এছাড়াও দেশের সরকারি-বেসরকারি স্বায়ত্তশাসিত সব সেক্টরে প্রভিডেন্ট ফান্ডসহ বিভিন্ন ফান্ড রয়েছে। ওই সব ফান্ডের অর্থ পুঁজিবাজারে আনতে বাধা নেই।

বুধবার (২২ জুন) ‘দ্যা ইনভেস্টমেন্ট ইলিজিবিলিটি অব দ্যা রেজিস্টার্ড রিকগনাইজড প্রভিডেন্ট পেনশন অ্যান্ড গ্রাচ্যুইটি ফান্ড (আরপিপিজিএফ) ফর আইপিওস’ শীর্ষক গণশুনানি অনুষ্ঠানে তিনি এ সব কথা বলেন। এ গণশুনানি আয়োজন করে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)।

বিএসইসি কমিশনার বলেন, ‘আমাদের দেশে ৬ বিলিয়ন ডলারের ওয়েলথের বিভিন্ন ফান্ড আছে। সেগুলো সেই পরিমাণে আমাদের ক্যাপিটাল মার্কেটে এসে পৌঁছায়নি। আমাদের মার্কেটের তথ্য অনুযায়ী, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ২০ প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৫৫ মিলিয়ন ডলার রয়েছে। এসব ফান্ড বিনিয়োগ করতে পারলে পুঁজিবাজার অনেক উপকৃত হবে।’

এসব অর্থ বিনিয়োগে কোনো বাধা নেই উল্লেখ করে শামসুদ্দিন বলেন, ‘সরকার সুবিধা দিয়েছে এসব ফান্ডের ২৫ শতাংশ পর্যন্ত লিস্টেড সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ করা যাবে। এগুলো ব্যবহার করতে পারলে পুঁজিবাজার অনেক সম্প্রসারিত হবে। কিন্তু সেটিও সেই অর্থে এখনও অনেক দূরে আছে।’

গণশুনানির উদ্দেশ্য সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘কীভাবে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সহযোগিতা করা যায়, কীভাবে তারা আরও বেশি আমাদের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে পারে, সেই প্রেক্ষাপট থেকে প্রভিডেন্ড ফান্ড, পেনশন ফান্ড, গ্র্যাচুইটি ফান্ড আছে, সেগুলো আইপিওতে কীভাবে আসতে পারে এবং সহজেই বিনিয়োগ করতে পারে সেটির বিষয়ে আজকের আলোচনা।’

তিনি বলেন, ‘পুঁজিবাজারের ভারসাম্য যাতে বৃদ্ধি পায় সে জন্য আমরা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বাড়াতে চাই। যারা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ করতে পারেন তাদের আমরা আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। তাদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি। তাদের পরামর্শ গ্রহণ করেছি।

‘আরও যদি প্রশ্ন থাকে বিএসইসির সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। যদি কোনো বিষয়ে সংশোধনের প্রস্তাব আসে এবং উপযুক্ত মনে হলে সেগুলো আইন-কানুন দেখে তাদের সুবিধামতো সেটা করে দেয়ার চেষ্টা করব।’

গণশুনানিতে ডিএসই চেয়ারম্যান ইউনুসুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশে ৬০ ব্যাংক রয়েছে। এসব ব্যাংকের প্রায় ১০ হাজার শাখা রয়েছে। একই সঙ্গে অনেকগুলো আর্থিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানগুলোতে যে প্রভিডেন্ড ফান্ড রয়েছে, সেগুলো আমরা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে পারি। এসব অর্থ পুঁজিবাজারের নিয়ে আসতে পারলে বাজার অনেক উপকৃত হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে যেভাবে কাজ করছি তা অনেকটা পূর্ণ হবে যদি প্রভিডেন্ড ফান্ড বিনিয়োগের জন্য নিয়ে আসতে পারি।’

সমাপনী বক্তব্যে বিএসইসি কমিশনার আব্দুল হালিম বলেন, ‘আমাদের এখানে ইনভেস্টর ফান্ডের অভাব রয়েছে সেটি পুরোপুরি সত্য নয়। আস্থার জায়গা, সেই জায়গাটা এখনও সংকটজনক অবস্থানে রয়েছে। বিনিয়োগ সুযোগ আরও বাড়াতে কমিশন কাজ করছে।’

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজের ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, ডিএসই ব্রোকারস অ্যাসোসিয়েশনের-ডিবিএ প্রেসিডেন্ট রিচার্ড ডি রোজারিও, ডিএসইর প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা-সিআরও সাইফুর রহমান মজুমদার।

অনুষ্ঠানে ‘এলিজিবল ইনভেস্টরস-আরপিপিজিএ: এনগেজমেন্ট ইন ক্যাপিটাল মার্কেট’ শিরোনামে প্রজেক্টেড ভিউ উপস্থাপন করেন ডিএসইর লিস্টিং অ্যাফেয়ার্স বিভাগের ইনচার্জ ও সিনিয়র ম্যানেজার রবিউল ইসলাম।

spot_img

অন্যান্য সংবাদ