বৃহস্পতিবার, মে ২৬, ২০২২

নিয়ন্ত্রক সংস্থার হস্তক্ষেপে থামল পতনের সুরঃ সূচক বেড়েছে, বেড়েছে লেনদেন

পুঁজিবাজার রিপোর্ট: বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার হস্তক্ষেপে অবশেষে থামল সূচকে পতনের সুর। গতকাল তলানী থেকে বাজার যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল সেখান থেকে আজ এগিয়েছি আরও বেশ খানিকটা। গতকালের তুলনায় সূচক আরও বেড়েছে আজ দ্বিতীয় দিন। বেড়েছে লেনদেনও।

রমজানের প্রথম কর্মদিবস থেকেই পুঁজিবাজারে প্রায় প্রতিদিন দরপতনের কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা যখন চূড়ান্ত, তখন গত দুইদিনের বাজারের উত্থান গতি সামনে ভালো বাজারের স্বপ্ন দেখাচ্ছে তাদের।

বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর ইংগিতে বিনিয়োগকারিরাও নতুন বিনিয়োগে উৎসাহি হচ্ছেন। তাদের মতে, যারা বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করেছিলো তাদের বিরুদ্ধে বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা শক্ত পদক্ষেপ নেয়ায় বিনিয়োগকারিরা আস্থা ফিরে পাচ্ছে।

উল্লেখ্য, কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই রমজানের প্রথম কর্মদিবস থেকেই পুঁজিবাজারে টানা দরপতন চলছিল। বাজার কেন কমছে কোন ধারণাই করতে পারছিলেন না বাজার-সংশ্লিষ্টরা। অজানা আতংকে সাধারণ বিনিয়োগকারিরাও হাতে থাকা শেয়ার লোকসানে বেঁচে দিচ্ছিলেন। এ অবস্থায় পতনের কারণ অনুসন্ধান কাজ করে কমিশন। অনুসন্ধানে কয়েকটি হাউজের অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্যও পাওয়া যায়।

এর প্রেক্ষিতে গত সোমবার (১৮ এপ্রিল) উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শেয়ারের দাম কমানোর চেষ্টা করায় ৯টি ব্রোকারেজ হাউসের ১৫ জন ট্রেডারকে বহিষ্কার করা হয়। আবার গতকাল মঙ্গলবার (১৯ এপ্রিল) আগ্রাসী বিক্রয়াদেশ দেওয়ার অভিযোগে ১৫টি ব্রোকারেজ হাউসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) বা ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) কাছ থেকে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। এই দুই পদক্ষেপের কারনে যারা কোন কারন ছাড়াই শেয়ার সর্বনিম্ম দামে ছেড়ে দিচ্ছিলেন তারা সতর্ক হয়ে যায়। এরপর থেকেই ইতিবাচক ধারায় চলে বাজার।

তবে বাজার এখনও রমজানের আগের অবস্থানে যেতে পারেনি। দুই দিনে ১২৩ পয়েন্ট বাড়লেও সূচকের অবস্থান রমজান শুরুর আগের অবস্থান থেকে অনেকটাই কম। রোজা শুরুর আগের কর্মদিবসে সূচক ছিল ৬ হাজার ৭৫৭ পয়েন্ট, যা এখনকার অবস্থানের চেয়ে ১৫১ পয়েন্ট কম।

আজ বুধবার ডিএসই ও সিএসইতে শেয়ারবাজারে লেনদেনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার এবং মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটের দাম বেড়েছে। এতে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৭৬.৩৪ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৬০৬.৪১ পয়েন্টে।

বুধবার শুরু থেকেই শেয়ারদর বেড়ে লেনদেন হতে থাকে। বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বড় মূলধনি কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর বাড়ার কারণে সূচকে শেষ পর্যন্ত যোগ হয় ৭৬ পয়েন্ট, যদিও লেনদেন শেষ হওয়ার ক্ষণিক আগে তা ৮৯ পয়েন্ট বেড়ে গিয়েছিল। শেষ সময়ের সমন্বয়ে কিছুটা কমে সেখান থেকে।

ডিএসইতে আজ টাকার পরিমাণে লেনদেন হয়েছে ৬০৫ কোটি ৯৭ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট। যা আগের কার্যদিবস থেকে ৬ কোটি ১৩ লাখ টাকা বেশি। আগের কার্যদিবস লেনদেন হয়েছিল ৫৯৯ কোটি ৮৪ লাখ টাকার।

ডিএসইতে আজ ৩৭৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৬৯টির বা ৭৬০.৯৮ শতাংশের শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে। দর কমেছে ৭৮টির বা ২০.৫৮ শতাংশের এবং ৩২টি বা ৮.৪৪ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই এদিন ২২৩.৫৬ পয়েন্ট বা ১.১৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৪৫৫.৪৫ পয়েন্টে। এদিন সিএসইতে হাত বদল হওয়া ২৬২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শেয়ার দর বেড়েছে ১৭৫টির, কমেছে ৬৪টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৩টির দর। আজ সিএসইতে ৪৮ কোটি ৬০ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।

spot_img

অন্যান্য সংবাদ