শুক্রবার, জানুয়ারী 27, 2023

অসৎ উদ্দেশ্যে আগ্রাসী বিক্রিঃ ব্যাখ্যা তলব বিএসইসির

পুঁজিবাজার রিপোর্ট: আগ্রাসী বিক্রয়াদেশ দেওয়ার অভিযোগে ১৫টি ব্রোকারেজ হাউসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) বা ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) কাছ থেকে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। লেনদেন শুরুর আগেই বড় অংকের শেয়ারের এই বিক্রি আদেশকে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বেআইনি ও অসৎ উদ্দেশ্য হিসেবে দেখছে। তাই আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এ ব্যাখ্যা চেয়েছে। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এ ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

বিএসইসি বলছে, এসব ব্রোকারেজ হাউস থেকে আজ সকাল ১০টায় লেনদেন শুরুর আগেই মৌলভিত্তির কিছু কোম্পানির বড় অঙ্কের শেয়ারের বিক্রয়াদেশ দেওয়া হয় দিনের সর্বনিম্ন দামে। তখনো বাজারে লেনদেন শুরু হয়নি। শেয়ারের আগ্রাসী বিক্রয়াদেশ আসায় কোম্পানিগুলোর দাম লেনদেনের শুরুতেই সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়। তাতে লেনদেন শুরুর প্রথম ১০ মিনিটের মধ্যেই ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের চেয়ে ৫০ পয়েন্ট কমে যায়।

লেনদেন শুরুর আগে প্রি–ওপেনিং সেশনে ভালো ভালো কোম্পানির শেয়ার ২ শতাংশ কম দামে আগ্রাসী বিক্রয়াদেশক বিএসইসি বাজারে দরপতন ঘটানোর চেষ্টা হিসেবে দেখছে। এ কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ নির্বাহীদের কাছে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে।

ঘটনার অনুসন্ধানে জানা যায়, কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই কয়েকদিন পর্যন্ত শেয়ারবাজারে টানা দরপতন চলছিল। এ অবস্থায় পতনের কারণ অনুসন্ধান কাজ করছে কমিশন। অনুসন্ধানে কয়েকটি হাউজের অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্যও পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে মঙ্গলবার লেনদেন শুরুর আগে সকাল পৌনে ১০টা থেকে ১০টার মধ্যে আগের দিনের ক্লোজিং দরের থেকে ২ শতাংশ কমে বিক্রয়াদেশ দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে তারা তিনটি বড় শেয়ারকে টার্গেট করেছিল।

এগুলো হলো- বেক্সিমকো লিমিটেড, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো এবং লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট। এই ব্রোকারেজ হাউজগুলো থেকে একসঙ্গে ১১ লাখের বেশি শেয়ার কম মূল্যে বিক্রির আদেশ দেওয়া হয়। আর শুরুতেই এসব বড় মূলধনের কোম্পানির দাম কমায় বাজারে পতন শুরু হয়। বিষয়টি কমিশনের সার্ভিলেন্সের নজরে এলে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করে তাদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। এরপর তারা কম দামের অর্ডার উঠিয়ে নিলে ইতিবাচক হয় বাজার।

পরবর্তীতে তাদেরকে এ চিঠি দিয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। কমিশন মনে করছে, এ ধরনের কাজ যা বেআইনি ও অসৎ উদ্দেশ্যে করা হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি দিয়েছে কমিশন।

জানতে চাইলে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, এসব হাউজ নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কম দামে শেয়ার বিক্রির প্রস্তাব করেছে। সিকিউরিটিজ আইন অনুসারে যা অন্যায়। এ ব্যাপারে প্রাথমিকভাবে তাদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হলে আমরা ব্যবস্থা নেব।

যেসব ব্রোকারেজ হাউসের শীর্ষ নির্বাহীর কাছে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে, সেগুলো হলো শাহেদ সিকিউরিটিজ, ব্যাংক এশিয়া সিকিউরিটিজ, আইডিএলসি সিকিউরিটিজ, এস অ্যান্ড এইচ ইক্যুইটিজ, লংকাবাংলা সিকিউরিটিজ, বিডি ফাইন্যান্স সিকিউরিটিজ, এমটিবি সিকিউরিটিজ, মার্কেন্টাইল ব্যাংক সিকিউরিটিজ, ইউসিবি স্টক ব্রোকারেজ, গ্লোব সিকিউরিটিজ, শান্তা সিকিউরিটিজ, শেলটেক ব্রোকারেজ, আইসল্যান্ড সিকিউরিটিজ, কাইয়ূম সিকিউরিটিজ ও মিডওয়ে সিকিউরিটিজ।

নিয়ম অনুযায়ী, বর্তমানে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম দিনে সর্বোচ্চ ২ শতাংশ কমতে পারে।

ব্যাখ্যা তলব করা একাধিক ব্রোকারেজ হাউসের প্রধান নির্বাহীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, লেনদেন শুরুর আগেই কিছু বিনিয়োগকারী তাদের শেয়ার ২ শতাংশ কম দামে বিক্রির আদেশ দেন। বিনিয়োগকারীদের ইচ্ছে, তাই আইন মেনে দিনের সর্বনিম্ন দামে বিক্রয়াদেশ দেওয়া হয়। যেহেতু প্রি–ওপেনিং সেশনে শেয়ারের ক্রয়াদেশ বা বিক্রয়াদেশ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে, তাই বিনিয়োগকারীরা ওই সময় তাঁদের শেয়ার বিক্রির আদেশ দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ঈদ ঘনিয়ে আসায় এখন অনেক বিনিয়োগকারী শেয়ার বিক্রি করে বাজার থেকে টাকা তুলে নিতে চাচ্ছেন। এ কারণে অনেকে লোকসানেও শেয়ার বিক্রি করছেন। আর লেনদেনকারী ব্রোকারেজ হাউস হিসেবে আমরা সেসব আদেশই কার্যকর করি।

এর আগে গতকাল সোমবার দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ৯টি ব্রোকারেজ হাউসের ১৫ জন অনুমোদিত প্রতিনিধি বা অথরাইজড রিপ্রেজেনটেটিভকে বহিষ্কারের নির্দেশ দিয়েছিল বিএসইসি। এসব অনুমোদিত প্রতিনিধি শেয়ারবাজারে ট্রেডার হিসেবে পরিচিত। ট্রেডারদের বিরুদ্ধে বিএসইসির অভিযোগ ছিল, ভালো ভালো কোম্পানির শেয়ার সোমবার তারা ‘জিরো প্রাইসে বা মার্কেট প্রাইসে’ বিক্রয়াদেশ দিয়েছিলেন। যার কারণে ওই দিন ওই সব শেয়ারের দরপতন ঘটে।

তবে একাধিক ব্রোকারেজ হাউসের প্রতিনিধি ও শেয়ারবাজারের লেনদেনের সঙ্গে জড়িত একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শেয়ারবাজারে অহরহই মার্কেট প্রাইসে শেয়ার বিক্রির ঘটনা ঘটে। কারণ, ডিএসইর লেনদেন যন্ত্রেই শেয়ার বিক্রির এ ব্যবস্থা রয়েছে। ব্যবস্থাটি বিদ্যমান থাকায় ট্রেডাররা শেয়ার কেনাবেচার ক্ষেত্রে এটি কম বেশি ব্যবহার করেন।

spot_img

অন্যান্য সংবাদ