শুক্রবার, মে ২৭, ২০২২

দেশের প্রথম কোম্পানি হিসেবে বিএটি বাংলাদেশের এডব্লিউএস কোর সনদ অর্জন

পানির সমস্যা বিশ্বের সবচেয়ে গুরুতর সংকটগুলির মধ্যে অন্যতম যা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশঙ্কা করা হয়। পানির টেকসই ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ইএসজি-এর চর্চা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে যা ভবিষ্যত গঠনে একটি বিশেষ ভূমিকা পালন করবে। ইএসজিকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে বিএটি বাংলাদেশ তার সকল পর্যায়ে সুষ্ঠূ পানি ব্যবস্থাপনার উপর গুরুত্বারোপ করে আসছে। 
এডব্লিউএস ইন্টারন্যাশনাল ওয়াটার স্টুয়ার্ডশিপ স্ট্যান্ডার্ড (এডব্লিউএস স্ট্যান্ডার্ড) মূলত পানির ব্যবহার, এর প্রভাবগুলো নিরীক্ষণ এবং টেকসই পানি ব্যবস্থাপনার প্রেক্ষাপটে স্বচ্ছতা ও সহযোগিতামূলক কাজের জন্য বিশ্বব্যাপী প্রযোজ্য একটি অবকাঠামো। এর মান নির্ধারণ করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ক্ষেত্রে সামাজিক, পরিবেশগত এবং অর্থনৈতিক সুবিধার কথা বিবেচনা করে।
ঢাকা ফ্যাক্টরি এবং গ্রিন লিফ থ্রেসিং প্ল্যান্টের জন্য সম্প্রতি বিএটি বাংলাদেশ অ্যালায়েন্স ফর ওয়াটার স্টুয়ার্ডশিপ (এডব্লিউএস) কোর সার্টিফিকেশনে স্বীকৃত হয়েছে। দেশের প্রথম কোম্পানি হিসেবে অ্যালায়েন্স ফর ওয়াটার স্টুয়ার্ডশিপ (এডব্লিউএস) কোর সনদপত্র পায় শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি এই প্রতিষ্ঠানটি।
অ্যালায়েন্স ফর ওয়াটার স্টুয়ার্ডশিপ (এডব্লিউএস) এর মান অনুযায়ী, বিএটি বাংলাদেশ ঢাকা ও কুষ্টিয়া উভয় কারখানায় দায়িত্বশীল পানি ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। পানির সুষ্ঠূ ব্যবহার নিশ্চিত এবং পানি পুনঃব্যবহারের উদ্যোগ বৃদ্ধি করাই ছিল এর লক্ষ্য। পানি ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে কোম্পানি পানি পুনর্ব্যবহারে দৃষ্টি আরোপ করেছে যা কিনা সংশ্লিষ্ট এলাকায় পানি হ্রাসের হার স্থগিত করে ভূগর্ভস্থ জল উত্তোলনের চাপ কমাতে সাহায্য করেছে।
ভূগর্ভস্থ পানির উপর নির্ভরতা কমাতে, বিএটি বাংলাদেশ  নিজ অধীনস্থ ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ইটিপি) এবং স্যুয়েজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) ব্যবহার করে বর্জ্য পরিশোধন করে। ইটিপি বায়োচিপস ব্যবহার করে প্রাথমিক কাজ পরিচালনা করে; তারপর ইটিপি থেকে নির্গত পানি রিভার্স অসমোসিস প্ল্যান্টে (আরও) পৌঁছায় এবং বাকিটা বাগান এবং বায়োফিল্টারে ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও, বিএটি বাংলাদেশ উচ্চমাত্রার ঘনীভূষণের জন্য প্রেসারাইজড পাম্প প্যাকেজ ইউনিট (পিপিপিইউ) চালু করেছে। এই প্রক্রিয়াটি একটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পানি পুনঃব্যবহারযোগ্য করে যা অন্যথায় অপচয় হতো।
যেহেতু চাষের জন্য উচ্চ মাত্রার পানির ব্যবহার প্রয়োজন, বিএটি বাংলাদেশ সেচের পানির ব্যবহারে অত্যন্ত অগ্রাধিকার প্রদান করেছে। তৃণমূল পর্যায়ের সংকটগুলো সনাক্তকরণের লক্ষ্যে কোম্পানী প্রতি মাসে ‘লিফ ফার্মার্স সাস্টেইন্যাবিলিটি’ মতবিনিময় সভা আয়োজন করে যেখানে চাষীদের সঙ্গে পানির সুষ্ঠু ব্যবহারের লক্ষ্য সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। আলোচনা থেকে প্রাপ্ত তথ্যাদি টিমকে প্রস্তুতি, পরিকল্পনা ও উন্নতি সাধনে সহায়তা করে। জলের অপচয় ২৫% কমাতে সেচের সময় পলি ব্যবহার করা হয়। কৃষিতে দক্ষ পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার জন্য বিকল্প ফুরো সেচ এবং অন্যান্য সর্বোত্তম চর্চা অনুসরণ করা হয়। 
এছাড়াও, বিএটি বাংলাদেশ পরিবেশের উপর ন্যূনতম প্রতিকূল প্রভাব নিশ্চিত করার সাথে সাথে সর্বাধিক অর্জনের জন্য সবসময় সচেষ্ট।
২০২২ এ নিরাপদ খাবার পানি কর্মসূচির ১৩তম বছরে পদার্পন করলো বাংলাদেশ। এটি বিশেষ করে আর্সেনিকপ্রবণ জনগোষ্ঠী জুড়ে বিশুদ্ধ পানির সহজলভ্যতা নিশ্চিতকরণে সরকারের যে লক্ষ্য, তারই সহযাত্রী হিসেবে বিএটি বাংলাদেশ কর্তৃক গৃহীত একটি উদ্যোগ।
এই প্রকল্পটি ২০০৯ সালে যাত্রা শুরু করে এবং এখনও পর্যন্ত এটি দেশের ২১টি জেলা জুড়ে ১১১টিরও বেশি পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্র স্থাপন করেছে, যা প্রতিদিন ২৭৩,০০০ এরও বেশি সুবিধাভোগীদের ৫৬৫,০০০ লিটারের বেশি বিশুদ্ধ পানীয় জল নিশ্চিত করেছে।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে, বিএটি বাংলাদেশ তার ভোক্তা, কর্মচারী, শেয়ারহোল্ডার এবং সমাজের সর্বোত্তম স্বার্থ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বরাবরই সেরা। বিএটি বাংলাদেশ সর্বদা কার্যকরী অবদান রাখার মাধ্যমে দেশের টেকসই উন্নয়নের অংশীদার হয়ে সকলের জন্য এক সম্ভাবনাময় আগামী বিনির্মাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

spot_img

অন্যান্য সংবাদ