বৃহস্পতিবার, মে ২৬, ২০২২

অবণ্টিত লভ্যাংশ ফেরতে আরও সময় পাচ্ছে কোম্পানিগুলো

পুঁজিবাজার রিপোর্টঃ কোম্পানিগুলোর অবণ্টিত লভ্যাংশ স্থিতিশীল তহবিলে পাঠানোর সময় আবারও বৃদ্ধি করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। আগামি ৩১ মে’র মধ্যে অবণ্টিত লভ্যাংশ ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডের ব্যাংক ও বিও হিসাবে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে তৃতীয় বারের মতো সময় বাড়ালো নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

এর আগে প্রথমবার ১৫ জানুয়ারির মধ্যে তহবিলে টাকা জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। সেই সময়ের মধ্যে কোম্পানিগুলো লভ্যাংশের হিসেব দিতে না পারায় পরবর্তীতে আবার ৩১ মার্চ পর্যন্ত সময় বেধে দেয়া হয়।

নতুন বেধে দেয়া সময়ের মধ্যে অবণ্টিত লভ্যাংশের হিসাব না দিলে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে এবার কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছিলেন পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম।

বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে অবণ্টিত লভ্যাংশের হিসাব দিতে না পারলে, ফান্ড কোথায় রয়েছে বলতে না পারলে এবং স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডে তা স্থানান্তর না করলে, কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অবণ্টিত লভ্যাংশের পরিমাণের থেকেও কয়েকগুণ বেশি জরিমানা আদায় করা হবে।’

বারবার সময় দেয়ার পরেও কোম্পানিগুলোর গড়িমসি নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে ভাবাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বারবার বলার পরেও কিছু কোম্পানি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবণ্টিত লভ্যাংশ ব্যাংক ও বিও হিসাবে জমা দিতে পারেনি। এটি আমাদের ভাবাচ্ছে। বিনিয়োগকারিদের টাকার হিসেব তাদের দিতেই হবে।

তিনি আরও বলেন, কোম্পানিগুলো কোনভাবেই এই টাকা নিজেদের কাছে রাখতে পারবে না। এই টাকা ও শেয়ারগুলো আলাদা একাউন্টে রাখার বিধান রয়েছে। কেউ যদি সে বিধান না মানে তবে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এর আগে ২২ মার্চ এ সংক্রান্ত একটি চিঠি সব তালিকাভুক্ত কোম্পানি ও সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে পাঠিয়েছে বিএসইসি।

এতে বলা হয়, আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে অবণ্টিত লভ্যাংশ স্থিতিশীল তহবিলের ব্যাংক ও বিও হিসাবে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে অবণ্টিত লভ্যাংশ স্থিতিশীল তহবিলে স্থানান্তর না করলে শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কোম্পানিগুলোর পাশাপাশি এই সংক্রান্ত চিঠি ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজের (বিএপিএলসি) সভাপতি, ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডের চিফ অব অপারেশন, ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালককে দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড পরিচালনার জন্য ‘ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড রুলস, ২০২১’ বিএসইসি প্রণয়ন করেছে। গত বছরের ২৭ জুন রুলসটি গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়। সে অনুযায়ী, ফান্ডটি ব্যবস্থাপনার জন্য ১১ সদস্যের বোর্ড অব গভর্নস রয়েছে। ফান্ড ব্যবস্থাপনার জন্য চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান।

spot_img

অন্যান্য সংবাদ