মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর 27, 2022

ঝিমানো বাজার চেয়ে আছে বুধবারের বৈঠকের দিকেঃ চাংগা হওয়ার প্রত্যাশা

পুঁজিবাজার রিপোর্টঃ গত কয়েকদিনের বাজার দেখে কেউ বলছেন বাজার এখন শক্তি সঞ্চয় করছে। আবার কেউ বলছেন বড় বিনিয়োগকারিরা বাজার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন। খুব শিগগিরই এই ঝিম ধরা বাজার চাংগা হবে। তবে বাজার কবে কতটুকু চাংগা হবে তার অনেকটাই নির্ভর করছে আগামিকালের একটি বৈঠকের ওপরে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) আগামিকাল ৩০ মার্চ বাজার মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠকে বসছে। বৈঠকে ডিএসই ব্রোকারেজ অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ), বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ), অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি অ্যাসোসিয়েশন এবং ক্যাপিটাল মার্কেট স্টাবিলাইজেশন ফান্ডের কর্মকর্তারা অংশগ্রহন করবেন।

পুঁজিবাজারে তারল্য প্রবাহ বৃদ্ধি করতে করনীয় ঠিক করতে এ বৈঠক ডাকা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সেখান থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে তার উপরেই অনেকটা নির্ভর করবে আগামিতে বাজারের গতিপ্রকৃতি। তাই বাজারসংশ্লিষ্টরাও তাকিয়ে আছেন মূলত এই বৈঠকের দিকে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও ঋণাত্বক ইকিউটি নিয়ে ছড়ানো গুজবের প্রেক্ষিতে পতনের পর থেকে বাজার ঠিক করতে একের পর এক পদক্ষেপ নিচ্ছে বিএসইসি। সেই পদক্ষেপের অংশ হিসেবেই আগামিকালের এই বৈঠক।

তবে এই বৈঠকের ব্যাপারে বেশি আশাবাদি হতে নারাজ বাজার বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, গত কয়েক মাসের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, এই বৈঠক শেষে ফলপ্রসূ তেমন কোনো ঘোষণা আসে না। আর ঘোষণা এলেও বাজারে প্রভাব পড়ে না। নানা সময় এই ধরনের বৈঠককে কেন্দ্র করে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায় তা আসলে বিফলেই যায়। এ কারণে বিনিয়োগকারীরা এখন অনেকটাই সতর্ক।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার নেয়া পদক্ষেপ

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে রুশ হামলার দিন থেকে টানা আট দিনে ৩৮২ পয়েন্ট সূচক পতনের পর বিএসইসি দরপতনের সর্বোচ্চ সীমা ২ শতাংশ নির্ধারণ করে দেয়। একই সাথে পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতা তহবিল থেকে আরও ১০০ কোটি টাকা জরুরি বিনিয়োগের নির্দেশ দেয়।

এ অবস্থায় বাজারে লেনদেন কম হওয়ায় তারল্য বাড়াতে নানা পক্ষের সহযোগিতা চায় বিএসইসি। এরপর ব্যাংক ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড পরিচালনাকারী সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে বসে বিএসইসি।

এরপরে পতনের গতি রোধ হলেও ঘোষণামতো কারও বিনিয়োগই বাড়েনি। এ অবস্থায় বাজারে তারল্য প্রবাহের ঘাটতি দেখা যায়। ১০ ও ১৫ মার্চ এক হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন হলেও পরের দুই কার্যদিবসে তা নেমে আসে ৬শ কোটি টাকার ঘরে।

এর মধ্যে গত ২৩ মার্চ সরকারি-বেসরকারি ৬১টি ব্যাংককে আনুষ্ঠানকিভাবে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ বাড়াতে চিঠি দেয় কমিশন। ওই চিঠিতে ৩৩টি ব্যাংক পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য ২০০ কোটি টাকার যে বিশেষ তহবিল গঠন করেছে, তা থেকে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ বাড়াতে বলা হয়েছিল। বাকি যে ২৮টি ব্যাংক তহবিল গঠন করেনি, তাদের তহবিল গঠন করতে বলেছিল বিএসইসি।

এর পর থেকে ধীরে ধীরে বিনিয়োগ বাড়তে থাকে। গত ৩ দিন ধরে ক্রমাগত লেনদেনের পরিমান বেড়েই চলছে। আজ সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস মঙ্গলবার ৯৮১ কোটি ৬০ লাখ টাকার লেনদেন হয়, যেখানে আগেরদিন লেনদেন হয়েছে ৯২৪ কোটি ৫৭ লাখ টাকার।

আজকের বাজার

লেনদেনের পরিমানের সাথে সাথে আজ প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) প্রধান মূল্যসূচক বেড়েছে। মূলত বিমা ও অব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর ভর করেই শেয়ারবাজারে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার দেখা মিলেছে।

এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতেই ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক আট পয়েন্ট বেড়ে যায়। লেনদেনের শুরুতে দেখা দেওয়া এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লেনদেনের প্রথম আড়াই ঘণ্টা অব্যাহত থাকে। এতে লেনদেনের এক পর্যায়ে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ২৫ পয়েন্ট বেড়ে যায়।

কিন্তু দুপুর সাড়ে ১২টার পর বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের দরপতন হয়। এতে দেখতে দেখতে সূচক ঋণাত্মক হয়ে পড়ে। ১২টা ৫৬ মিনিটের মাথায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক চার পয়েন্ট কমে যায়। বাজারের এ পরিস্থিতিতে দাম বাড়ার ধারা ধরে রাখে বিমা ও আর্থিক খাতের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান। ফলে পতনের হাত থেকে রক্ষা পায় প্রধান মূল্যসূচক।

দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে ১৭৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৫০টির। আর ৫২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। অপরদিকে বিমা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৩৫টির শেয়ার দাম বাড়ার বিপরীতে দাম কমেছে ১৫টির। আর্থিক খাতের ১৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম বাড়ার বিপরীতে দাম কমেছে তিনটির।

এতে দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় সাত পয়েন্ট বেড়ে ছয় হাজার ৭৬৫ পয়েন্টে উঠে এসেছে। অপর দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক তিন পয়েন্ট বেড়ে দুই হাজার ৪৭১ পয়েন্টে অবস্থান করছে। তবে ডিএসই শরিয়াহ্ আগের দিনের তুলনায় দশমিক ৪৮ পয়েন্ট কমে এক হাজার ৪৬৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

ডিএসইতে টাকার অঙ্কে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে সোনালী পেপারের শেয়ার। কোম্পানিটির ৭১ কোটি ৫৮ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা জিনেক্স ইনফোসিসের ৬২ কোটি ৫৬ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। ৫৪ কোটি ৭২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ফরচুন সুজ।

এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- বেক্সিমকো, জিপিএইচ ইস্পাত, ড্রাগন সোয়েটার, প্রিমিয়ার ব্যাংক, লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স এবং জিএসপি ফাইন্যান্স।

অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্য সূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ১৫ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৩১ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩০১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৩৯টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১২৪টির এবং ৩৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

spot_img

অন্যান্য সংবাদ