বৃহস্পতিবার, মে ২৬, ২০২২

উৎপাদনে ফিরছে কেপিসিএলঃ মন্ত্রীসভায় বিদ্যুৎ কেনার অনুমোদন

পুঁজিবাজার রিপোর্টঃ ১০ মাস পর ফের উৎপাদনে ফিরছে বিদ্যুৎ খাতের কোম্পানি খুলনা পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড বা কেপিসিএলের দুইটি কেন্দ্র। আনুষ্ঠানিক কোনো চিঠি না পেলেও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) থেকে মৌখিক সম্মতি পেয়েছে কোম্পানিটি। এরপর গত ২৪ মার্চ বিকাল থেকে খুলনার কেপিসি ইউনিট-২-এর ১১৫ মেগাওয়াটের ও যশোরের নওয়াপাড়া কেপিসি ৪০ মেগাওয়াটের এ দুইটি কেন্দ্রে উৎপাদন শুরু করে কোম্পানিটি। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে গতকাল এ তথ্য জানিয়েছে বিদ্যুৎ খাতের কোম্পানিটি।

এর আগে গত সপ্তাহে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে কেপিসিএলের এ দুটি প্লান্ট থেকে বিদ্যুৎ কেনার বিষয়ে অনুমোদন দেয়া হয়। নো ইলেকট্রিসিটি নো পেমেন্টের ভিত্তিতে দুই বছরের জন্য কেন্দ্র দুটি থেকে বিদ্যুৎ কেনার এ অনুমোদন দেয়া হয়। অর্থাৎ এ দুটি প্লান্ট থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ না করলে সরকারকে কোনো মূল্য পরিশোধ করতে হবে না।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের মে মাসে কোম্পানিটির ১১৫ ও ৪০ মেগাওয়াটের দুটি কেন্দ্রের মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ার পর সেগুলো বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়। সরকার কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ আর বাড়াবে না- এমন সিদ্ধান্ত হলেও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে মেয়াদ বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অনুরোধ করে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। দীর্ঘ আলোচনা শেষে গত ২৩ মার্চ সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে কেপিসিএলের দুটিসহ মোট পাঁচটি কেন্দ্র থেকে নতুন করে বিদ্যুৎ কেনার অনুমোদন দেয়া হয়।

সরকার যদিও ‘নো ইলেকট্রিসিটি, নো পেমেন্ট’ ভিত্তিতে নতুন করে বিদ্যুৎ কেনার অনুমোদন দিয়েছে, তার পরও কেপিসিএলের দুই কেন্দ্রের জন্য খরচ ধরা হয়েছে পৌনে ২ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে খুলনার গোয়ালপাড়ায় ১১৫ মেগাওয়াটের কেন্দ্রটি থেকে বিদ্যুৎ কিনতে সরকারের খরচ হবে ১ হাজার ২৯৫ কোটি টাকা। যশোরের নওয়াপাড়ায় ৪০ মেগাওয়াটের কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কিনতে দুই বছরে সরকারের খরচ হবে ৪৬০ কোটি টাকা।

কেপিসিএলের বিস্তারিত

২০১০ সালে পুঁজিবাজারে সরাসরি তালিকাভুক্ত হয় খুলনা পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড বা কেপিসিএল। কোম্পানিটির শেয়ার প্রথম দিন লেনদেন শুরু হয় ২৭৩ টাকায়। সর্বোচ্চ দাম ওঠে সেদিন ৩১০ টাকা। এরপর টানা দাম কমতে কমতে পরের বছর ফেব্রুয়ারিতে শেয়ারটির দাম পৌছায় ৩৬ টাকায়। এরপর থেকে এই দামের আশেপাশেই থাকে শেয়ারটির দর। এরপর ২০১৮ সালে ৩০ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষনাকে কেন্দ্র করে শেয়ারের দরে নড়চড় দেখা যায়। ওইসময় শেয়ারের দাম ৪৮ টাকা থেকে বেড়ে সর্বোচ্চ ১৩১ টাকায় পৌছায়।

তবে এটি যে মেয়াদি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর তা বন্ধ হয়ে যাবে, এই পুরো সময়ের মধ্যে সে বিষয়ে বিনিয়োগকারীদের কোনো ধারণা ছিল না। কোম্পানিটির বিদ্যুৎকেন্দ্র ছিল মোট তিনটি। এর মধ্যে ২০১৮ সালে একটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ বিষয়টি নিয়ে জানতে পারে।

এর পর থেকে দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের আয়ে লভ্যাংশ পেয়ে আসছে বিনিয়োগকারীরা। এই দুটির মধ্যে ১১৫ মেগাওয়াটের কেপিসিএল-১-এর মেয়াদ শেষ হয় গত ৩১ মে। আর ৪০ মেগাওয়াটের নওয়াপাড়া বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ শেষ হয় ২৮ মে।

পটুয়াখালীর ইউনাইটেড পাওয়ার পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৩৫ শতাংশের মালিকানা আছে কেপিসিএলের। এই দুটি কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর কেপিসিএলের আয়ের একমাত্র উৎস ছিল সহযোগী কোম্পানি ইউনাইটেড পাওয়ার পায়রার ৩৫ শতাংশের মালিকানা। তবে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের আয়ে চলতি বছর দুই প্রান্তিকে কেপিসিএল মুনাফা করতে পারেনি। শেয়ারপ্রতি ১৮ পয়সা লোকসান দিয়েছে কেপিসিএল।

গত বছরের ২০ মে কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘কেন্দ্রের মেয়াদ বাড়াতে আমাদের চেষ্টা-তদবির অব্যাহত রয়েছে।’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারির তথ্য অনুযায়ী কোম্পানিটির মোট শেয়ারের ৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ শেয়ার ছিল প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে। আর ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীদের কাছে ছিল ২০ দশমিক ৮৮ শতাংশ শেয়ার। আর দশমিক ১৮ শতাংশ আছে বিদেশিদের হাতে। কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে আছে মোট শেয়ারের ৬৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ।

কোম্পানিটির শেয়ারদর গত এক বছরে সর্বোচ্চ ছিল ৫২ টাকা ৫০ পয়সা। তবে অনুমোদনসংক্রান্ত জটিলতার কারণে একপর্যায়ে তা ২৮ টাকা ৬০ পয়সায় নেমে এসেছিল।

বুধবার মন্ত্রিসভা কমিটির সিদ্ধান্তে এক দিনেই শেয়ারদর প্রায় ১০ শতাংশ বাড়ে। দ্বিতীয় দিন লেনদেনের শুরুতে আবার প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে লেনদেন শুরু হলেও বেলা শেষে আগের দিনের দাম ৩৫ টাকায় নেমে আসে, যদিও একপর্যায়ে দর ৩৪ টাকা ৫০ পয়সা হয়ে গিয়েছিল।

সর্বশেষ অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) কেপিসিএলের শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১৮ পয়সা। যেখানে আগের হিসাব বছরের একই সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ১ টাকা ৫৭ পয়সা।

spot_img

অন্যান্য সংবাদ