শুক্রবার, মে ২৭, ২০২২

বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্টে দুবাইয়ে বৈঠকে বসছেন বিএসইসি চেয়ারম্যান

পুঁজিবাজার রিপোর্টঃ আজ দুবাইয়ের বিনিয়োগকারিদের সাথে বৈঠকে বসছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের পুঁজিবাজারের ব্যাপ্তি বাড়ানো এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্টে দুবাইয়ে প্রবাসি, বিভিন্ন ব্যবসায়ি ও সরকারের উচ্চ পদস্থ বিভিন্ন ব্যক্তিদের নিয়ে এ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে। এসব বৈঠকে তিনি দেশের পুঁজিবাজারে প্রবাসি ও বিদেশীদের বিনিয়োগের আহবান জানাবেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপরাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী এবং দুবাইয়ের শাসক মুহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুমের আমন্ত্রণে গত সোমবার (৭ মার্চ) তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফর সঙ্গী হিসেবে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরে যান।

বিএসইসি’র এক কর্মকর্তা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর সঙ্গী হিসেবে বিএসইসি চেয়ারম্যান ৫ দিনের সফরে সংযুক্ত আরব আমিরাত যাচ্ছেন। এ সফরে তিনি দুবাই ও আবু-ধাবিতে পুঁজিবাজার উন্নয়নে বেশ কয়েকটি কর্মসূচিতে অংশগ্রহন করবেন। সফর শেষে তিনি ১২ মার্চ দেশে ফিরবেন।

মধ্যপ্রাচ্যে প্রধানমন্ত্রীর সফরের যৌক্তিকতা প্রসংগে শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে অনেক ফান্ড রয়েছে। ওই ফান্ডগুলো এতোদিন তারা আমেরিকা ও যুক্তরাজ্যে বিনিয়োগ করেছে। তবে বিভিন্ন কারণে তারা এখন এশিয়াতে বিনিয়োগে আগ্রহী। তাই সঠিক সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুবাই সফর করছেন।

দুবাই সফর সফল হবে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে কমিশন চেয়ারম্যান আরো বলেন, দুবাই ও আবুধাবি সফরে নামকরা ব্যাংকার্স, ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকার্সদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। আশা করি দেশে ফিরে সুখবর দিতে পারব। তিনি বলেন, বৈশ্বয়িক অর্থনীতির অনেক সমস্যার কারণে বিনিয়োগের দিক থেকে এখন কিন্তু এশিয়া সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে। এখন এশিয়ার দেশগুলো ভালো অবস্থানে থাকতে চায়। ট্যুরিজম ও সার্ভিস ইন্ডাস্ট্রিজগুলোর এখানেই বেস্ট। এছাড়া অন্যান্য দিকে যা যা হচ্ছে সবই এখন এশিয়া ভিত্তিক।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আমিরাত সফর নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরে দেশটির সঙ্গে চারটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করতে চায় বাংলাদেশ। এ সফরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি, সরাসরি শিপিং লাইন চালু, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জলবায়ু পরিবর্তনে টেকসই উন্নয়ন, আইসিটি ও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে জোর দেবে ঢাকা।

সফরে আলোচনার বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে আমাদের মোট আমদানি-রপ্তানির পরিমাণ প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার। তবে বাণিজ্য ঘাটতি এখনো দেড় বিলিয়ন ডলারের মতো। এর মূল কারণ আমরা তাদের কাছ থেকে শুধু জ্বালানি তেল আমদানি করি। রপ্তানির পরিমাণ আরও বাড়ানোর জন্য এই সফরে গুরুত্বারোপ করা হবে। সেজন্য বাংলাদেশের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে সরাসরি শিপিং সার্ভিস চালু নিয়ে আলোচনা করা হবে।

মোমেন বলেন, ফেব্রুয়ারিতে যখন সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরে গিয়েছিলাম, তখন এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর সফরে তা আরও জোরালোভাবে উপস্থাপন করা হবে।

তিনি বলেন, পাশাপাশি বাংলাদেশের সঙ্গে সংযুক্ত আমিরাতের সম্পর্ক আরও জোরদার করতে দুই দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মাঝে জয়েন্ট বিজনেস ফোরামের আয়োজন করা হবে। যা আমাদের ব্যবসা বাণিজ্যের জন্য খুবই লাভজনক হবে বলে আমি মনে করি। এতে সৃষ্টি হতে পারে বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র।

spot_img

অন্যান্য সংবাদ