মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর 27, 2022

বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি হয় এমন কোন কিছুই মেনে নেবে না কমিশন

পতনের বাজারে কারন ছাড়া শেয়ার ছাড়লে জবাবদিহি করতে হবেঃ শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ

পুঁজিবাজার রিপোর্টঃ যারা আতংকের বাজারে কারন ছাড়াই সব শেয়ার ছেড়ে দিয়ে সূচকের পতন তরান্বীত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশনার অধ্যাপক ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে আতংকের সুযোগ নিয়ে কেউ কেউ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি করতে এমনটি করে, যা কমিশন কখনোই হতে দিবে না। বিনিয়োগকারিদের ক্ষতি হয় এমন কোন কিছুই মেনে নেয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সোমবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরাম (সিএমজেএফ) এবং বাংলাদেশ একাডেমি ফর সিকিউরিটি মার্কেটের (বিএএসএম) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘পুঁজিবাজারে মুদ্রানীতি ও রাজস্ব নীতির প্রভাব’ শীর্ষক কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএসইসির এই কমিশনার এসব কথা বলেন। এতে প্যানেল আলোচক হিসেবে ছিলেন অধ্যাপক আবু আহমেদ, সাবেক কমিশনার আরিফ খান, অধ্যাপক মোহাম্মাদ হেলাল উদ্দিন, বিআইবিএমের শাহ মোহাম্মদ আহসান হাবীব ও সিএমজেএফ সভাপতি জিয়াউর রহমান। সভাপতিত্ব করেন বিএএসএমের মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরী।

গত দুইদিনে ডিএসই’র প্রধান সূচক ডিএসইএক্সের ২৭২ পয়েন্ট হারানোকে অযৌক্তিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন গনমাধ্যমে প্রকাশিত রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ কিংবা ব্রোকারেজদের নেগেটিভ ইক্যুইটি সমন্বয়কে যেভাবে কারন হিসেবে বলা হচ্ছে, তার কোনটাই এ পতনের কারণ হতে পারে না। এটা সত্যি যে অনেক বিনিয়োগকারিরাই আতংকে শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছেন, তবে তারা যদি একটু সঠিক ভাবে মূল্যায়ন করেন তবে দেখবেন বাজারের সাথে এ বিষয় দুটির কোন সম্পর্কই নেই।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ প্রসংগে তিনি বলেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ হলেও তার সঙ্গে বাংলাদেশের সর্ম্পক্য খুবই কম। পুরো বাজারের তুলনায় তাদের সাথে আমাদের অর্থনৈতিক সম্পর্ক অনেক কম। বাজার নিয়ন্ত্রণে রাশিয়ার মূল প্রভাব জ্বালানিতে, যার সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই। তাই আমাদের অর্থনীতিতে এর কম প্রভাব পড়বে। ফলে কেউ যদি বলেন একারনে গত ২ দুই দিনে এই পরিমাণ সূচক কমেছে, তা ঠিক না।

অন্যদিকে নেগেটিভ ইক্যুইটি নিয়ে গণমাধ্যমে যে খবর এসেছে, তাও পুরোপুরি ঠিক না বলে জানিয়েছেন বিএসইসির এই কমিশনার। তিনি বলেন, পুঁজিবাজারে নেগেটিভ ইক্যুইটি সমন্বয়ে প্রথম নির্দেশনা ২০১৫ সালে দেওয়া হয়। এরপরে নিয়মিত তা সমন্বয়ের জন্য সময় বাড়ানো হয়েছে। সম্প্রতি বর্তমান কমিশন ৭ম বারের মতো সময় বাড়িয়ে তা ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত করেছে। পুঁজিবাজারের স্বার্থে প্রয়োজনে এ সময় আরও বাড়ানো হবে। এটা নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।

এসময় বিনিয়োগকারীদেরকে আশ্বস্ত করে শেখ সামসুদ্দিন বলেন, নেগেটিভ ইক্যুইটি সমন্বয় নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। পুঁজিবাজার ও বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি হয়, এমন কোন সিদ্ধান্ত কমিশন নেবে না। সবার আগে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

spot_img

অন্যান্য সংবাদ