মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর 27, 2022

বাজারমূল্যেই বিনিয়োগসীমা নির্দিষ্ট করে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রজ্ঞাপন জারি কেন্দ্রিয় ব্যাংকের

পুঁজিবাজার রিপোর্টঃ বিনিয়োগকারিদের অনেকদিনের চাওয়া ‘ক্রয়মূল্যে বিনিয়োগসীমা’ নির্ধারণের প্রত্যাশা পূরন হলো না। বেশ কয়েক মাস ধরে শেয়ারের ক্রয়মূল্যে বিনিয়োগসীমা নির্ধারণের বিষয় নিয়ে গুঞ্জন চললেও গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সংক্রান্ত নির্দেশনা থেকে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন ১৯৯৩ এর ১৮ (ছ) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এত দিন ব্যাংকের কোন কোন লগ্নিকে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকে হিসাবে ধরা হবে, এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা থাকলেও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে তা সুনির্দিষ্ট করা ছিল না। তবে গতকালের প্রজ্ঞাপনের পর থেকে ব্যাংকের মতো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কোন কোন উপাদানকে বিনিয়োগ হিসাবে ধরা হবে, তা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশে ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ধারণকৃত পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সকল প্রকার শেয়ার, ডিভেঞ্চার, কর্পোরেট বন্ড, মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিট এবং পুঁজিবাজারের অন্যান্য নিদর্শনপত্রের বাজার মূল্যে নির্ধারণ করা হবে।

এছাড়াও আরও কিছু উপাদানকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ হিসাবে সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে প্রজ্ঞাপনে। প্রজ্ঞাপন অনুসারে, পুঁজিবাজারের সাথে সম্পর্কিত নিজের সহযোগী কোম্পানিকে দেয়া ঋণ বিনিয়োগসীমার অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এছাড়াও পুঁজিবাজারে থাকা যে কোন কোম্পানিতে থাকা বিনিয়োগ ও ঋণও এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকবে। শুধু তাই নয়, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে গঠিত কোনো তহবিলের প্রদত্ত চাঁদাও বিনিয়োগসীমায় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

বিনিয়োগকারিদের অনেক দিনের চাওয়া পূরন না হলেও এই প্রজ্ঞাপনে বেশ কিছু সুসংবাদ দিয়েছে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নিজস্ব সাবসিডিয়ারি কোম্পানি বা কোম্পানিসমূহকে প্রদত্ত ইক্যুয়িটি দীর্ঘমেয়াদি ইক্যুয়িটি বিনিয়োগ/ভেঞ্চার ক্যাপিটাল, সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি (বিডি) লিঃ স্টক এক্সচেঞ্জগুলোর শেয়ার ওই আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ হিসেবে গণ্য হবে না।
অর্থ্যাৎ, উদাহরণস্বরুপ কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ সীমা ১০০ টাকা। এই সীমার মধ্যে থেকেই আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি তার নিজের সহযোগি কোম্পানিতে ১০ টাকা বিনিয়োগ করে, যারা পুঁজিবাজার কিংবা অন্য কোথাও বিনিয়োগ করবে। নতুন এই প্রজ্ঞাপন জারির পর এই ১০ টাকা বিনিয়োগসীমা থেকে মুক্ত হয়ে যাবে। এটি এখন থেকে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ হিসেবে গন্য হবে। প্রতিষ্ঠানটি তখন বাজারে ৯০ টাকার বিনিয়োগ করেছে ধরে নেয়া হবে। এতে করে এই আর্থিক প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য নতুন করে ১০ টাকা যোগ করার সুযোগ পাবে।
প্রজ্ঞাপনটিতে আরো বলা হয়, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের পুজিবাজারে বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিবরণী প্রতি ত্রৈমাস শেষ হবার পর পরবর্তী মাসের সাত কর্মদিবসের মধ্যে সংযুক্ত ছক মোতাবেক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগে দাখিল করতে হবে।

  • ট্যাগ
  • bb
spot_img

অন্যান্য সংবাদ