বৃহস্পতিবার, মে ২৬, ২০২২

সংশোধনঃ সুসময়ের আশা বিনিয়োগকারিদের

পুঁজিবাজার রিপোর্টঃ গত তিন কার্যদিবস কিছুটা শংকাতেই কেটেছে বিনিয়োগকারিদের। মাসের প্রথম দিন থেকে সূচকে উত্থানের যে গতি ছিল তা যেন কিছুটা স্তিমিত হয়ে আসছিল গত কয়েকদিনে। অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারিরা দর সংশোধনের আভাস পাচ্ছিলেন এ সময়ে। সেই শংকাই যেন সত্যি হলো আজ।

তবে সাধারণ বিনিয়োগকারিদের আশা, আজকের দর পতন যেন স্বাভাবিক দর সংশোধনই হয়। যেভাবে মাসের প্রথম থেকে দর বেড়েছে, পুরো মাস যেন সেই ধারাই বজায় থাকে। অবশ্য এ প্রত্যাশার পেছনে তাদের যুক্তিও আছে। বিনিয়োগকারিদের মতে, খুব শিগগিরই ব্যাংকের বিনিয়োগ সীমার বিধিতে সংশোধন আনতে পারে কেন্দ্রিয় ব্যাংক। ক্রয় দামে বিনিয়োগ সীমা নির্ধারণ করা হবে ব্যাংকগুলোর জন্য। এতে করে তাদের বিনিয়োগের সুযোগ বাড়বে। যা বাজারের জন্য ভালো খবর। এছাড়াও এসইসির চেয়ারম্যান গত কয়েকদিন ধরেই বাজারে ভালো ভালো কোম্পানি আসার খবর দিচ্ছেন। সাথে আগামি বাজেটে বাজারের জন্য সুসংবাদের ইংগিতও দিয়েছেন তিনি। এতে করে তাদের মনে আশার সঞ্চার হচ্ছে।

গত কয়েকদিন ধরেই লাভ তুলে নেয়ার প্রবণতা দেখে গেছে বাজারে। প্রতিদিনই প্রথম ১০ মিনিটে সূচক অনেকটা বেড়ে সারাদিন ধরে ক্রমাগত কমতে থাকে। এমন করে গত কয়েকদিন সূচকের দাগ সবুজে থাকলেও আজ আর সেটা ধরে রাখতে পারেনি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স।

এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে ডিএসইতে লেনদেন শুরু হতেই প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ১০ পয়েন্ট বেড়ে যায়। আর লেনদেনের ৪৭ মিনিটের মাথায় বাড়ে ২৯ পয়েন্ট।
তবে এরপরেই বাজারে ছন্দপতন ঘটতে থাকে। দরপতন হতে থাকে একের পর এক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের। লেনদেনের সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে পতনের মাত্র। ফলে সবকটি মূল্যসূচকের পতন দিয়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়। দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ২৩ পয়েন্ট কমে ৭ হাজার ৬০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৩ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৫১৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ৭ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৫৯৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

দরপতনের বাজারে আজ স্বস্তিতে ছিলো না কোন খাতের বিনিয়োগকারিই। সব কয়টি খাতের বেশিরভাগ কোম্পানির দর কমেছে। আজ চার খাতের সব কয়টি কোম্পানির দাম কমেছে। গতকাল লেনদেনের দ্বিতীয়তে থাকা প্রকৌশল খাতের ৮৮ শতাংশ শেয়ারের দাম আজ কমেছে। শেয়ারের দামের সাথে সাথে কমেছে এ খাতের লেনদেনর পরিমানো। তবে গতকালের এ তালিকায় প্রথম হওয়া ওষুধ ও রসায়ন খাত লেনদেনে আজও তার অবস্থান ধরে রেখেছে। গতকালের চেয়ে অনেকটা কম হলেও এ খাত আজও সর্বোচ্চ লেনদেন করেছে, যা টাকার অংকে প্রায় ১৫০ কোটির কাছাকাছি। আর দর হারিয়েছে খাতের ৭০ ভাগের বেশি কোম্পানি।

তবে আজ বিনিয়োগ বেড়েছে ব্যাংক খাতে। লভ্যাংশ ঘোষণার সময় যত এগিয়ে আসছে ততই বিনিয়োগকারিদের আগ্রহের তালিকায় চলে আসছে ব্যাংক খাতের শেয়ারগুলো। আজ সবচে কম দরপতন হয়ে এ খাতের কোম্পানিগুলোতে। লেনদেনের পরিমানও বেড়েছে গতকালের চাইতে। গতকাল যেখানে এ খাতে মোট লেনদেন হয়েছিল ৭৬ কোটি টাকার কিছু বেশি সেখানে আজ লেনদেন হয়েছে প্রায় ১৩৪ কোটি টাকার।

তবে একা ব্যাংক খাত আজ বাজারে তেমন ভুমিকা রাখতে পারে নি। অন্য কোম্পানিগুলোর দরপতনের সামনের এ খাত আজ অনেকটাই নিরুপায় ছিল। যে কয়টি শেয়ারের দাম বেড়েছে, দর পড়েছে তার চার গুনের বেশি কোম্পানির। আজ দাম বেড়েছে মাত্র ৬৪টি কোম্পানির, কমেছে ২৭৩টির। অন্যদিকে গতকালের দাম ধরে রেখেছে ৫৪টি কোম্পানি।

কোম্পানির দরের সাথে সাথে বাজারের মোট লেনদেনও বিনিয়োগকারিদের মনে অস্বস্তি দিচ্ছে। গত কয়েকদিন ধরে কোনভাবেই লেনদেন ১২-১৩শ কোটির ঘর ছাড়ছে না। আজ যেমন দিনভর ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ২৪১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। যেখানে আগের দিন লেনদেন হয় ১ হাজার ২৭৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। সে হিসেবে লেনদেন বেড়েছে মাত্র ৩৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।

spot_img

অন্যান্য সংবাদ