মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর 27, 2022

পুঁজিবাজারে আসতে চাই কিন্তু পেপারওয়ার্কে আটকে যাইঃ ডিসিসিআই সভাপতি

শাফিউন ইবনে শাহীনঃ পুঁজিবাজার থেকে টাকা তুলতে যথাযথ কাগজপত্র তৈরী করাটাই দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পদ্যোক্তাদের জন্য বড় বাধা বলে মনে করেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (ডিসিসিআই) সভাপতি রিজওয়ান রহমান। প্রয়োজনীয় সব রকম পদক্ষেপ গ্রহন করে ডিসিসিআই এ প্রতিবন্ধকতা দূর করতে চায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দেশের সমসাময়িক অর্থনীতির সার্বিক পরিস্থিতি এবং ২০২২ সালে ডিসিসিআইর বর্ষব্যাপী কর্ম-পরিকল্পনা নিয়ে আজ রোববার (৬ ফেব্রুয়ারি) ডিসিসিআই ভবনে আয়োজিত ‘মিট দ্যা প্রেস’ অনুষ্ঠান শেষে পুঁজিবাজার ডটকমের সাথে একান্ত আলাপে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজওয়ান রাহমান বলেন, পুঁজিবাজারে এসএমইদের জন্য আলাদা প্লাটফর্ম নিয়ে আসা আমাদের জন্য অবশ্যই ভালো খবর। তবে দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের অনেকেই এখনো এখান থেকে বিনিয়োগ নেয়ার জন্য প্রস্তুত না।
তিনি বলেন, পুঁজিবাজার থেকে টাকা তোলার জন্য যথাযথ কাগজপত্র তৈরী করাটা একজন ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উদ্যোক্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অনেকরকম হিসেব নিকেশ দিতে হয় বলে অনেকে ব্যাংক থেকেই টাকা নিতে সংকোচবোধ করেন। সেখানে পুঁজিবাজার থেকে টাকা তুলতে এর চেয়েও কয়েকগুন বেশি কাগজপত্র তৈরী করতে হয়।

তবে বিনিয়োগ আনতে ও এ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দিতে ডিসিসিআই তাদের সদস্যদের জন্য কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান তিনি। সংগে যোগ করে বলেন, বিনিয়োগসংক্রান্ত সচেতনতা বাড়াতে চেম্বার নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

এ সময় বন্ড মার্কেট শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এসএমই খাতের জন্য আলাদা বন্ড নিয়ে আসা প্রয়োজন। আমাদের বন্ড মার্কেট শক্তিশালী করতে হবে। ব্যবসা বাড়ানোর জন্য সহজ শর্তে বিনিয়োগ সুবিধা দরকার।
তিনি বলেন, পৃথিবীর বহু দেশে লেনদেনের উপর ভিত্তি করে সহজ শর্তে ঋণ পাওয়া যায়। অথচ আমাদের দেশে ঋণের বিপরীতে সম্পদ দেখাতে হয়। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ব্যবসা সহজ করতে অন্য সব দেশের মতো আমাদেরও লেনদেনের বিপরীতে ঋণ সুবিধা শুরু করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, পৃথিবীর বহু দেশে লেনদেনের উপর ভিত্তি করে সহজ শর্তে ঋণ পাওয়া যায়। অথচ আমাদের দেশে ঋণের বিপরীতে সম্পদ দেখাতে হয়। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ব্যবসা সহজ করতে অন্য সব দেশের মতো আমাদেরও লেনদেনের বিপরীতে ঋণ সুবিধা শুরু করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি কর্পোরেট ট্যাক্স হার কমানোরও দাবি জানান অনুষ্ঠানে। তিনি বলেন, আমরা প্রতিবছরই ট্যাক্স কমানোর দাবি করে আসছি। গত দুই বছর ধরে সরকার ক্রমান্বয়ে আমাদের এ দাবী মেনে নিচ্ছে। এটি আমাদের জন্য আশার সংবাদ। যেহেতু আমরা স্বল্পোন্নত দেশের তালিকায় আসতে যাচ্ছি ২০২৬ সাল থেকেই আমাদের ব্যবসায় হুট করে খরচ বেড়ে যাবে। পুরো বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য হলেও আমাদের তখন কর্পোরেট ট্যাক্স হারে সমন্বয় করতে হবে।

এই অঞ্চলে বাংলাদেশের ট্যাক্স হার সবচে বেশি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিদেশিরা যখন কোনও দেশে কারখানা খুলতে চায় তখন সবার আগে ব্যবসা করাটা কত সহজ সে সম্পর্কে ধারণা নেন। এরপরেই তারা জানতে চান দেশের কর হার। আমরা এখানে আশেপাশের সব দেশ থেকে পিছিয়ে আছি। যার কারনে অন্য সব দেশের তুলনায় আমাদের দেশের বিদেশি বিনিয়োগ একদমই নগন্য। বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও দেশের ব্যবসার প্রসারে তিনি সরকারের কাছে যৌক্তিক কর হার প্রত্যাশা করেন বলে জানান।

তার মতে শুধু ট্যাক্স হারে সংশোধন আনলেই হবে না, সাথে সাথে সংশোধন আনতে দেশের আইনেও। দেশে আইন থাকলেও তার যথাযথ বাস্তবায়নে ঘাটতি আছে বলে মনে করেন ডিসিসিআই সভাপতি।

এছাড়াও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডেও (এনবিআর) সংশোধন দরকার বলে অনুষ্ঠানে জানান তিনি। এনবিআরের জবাবদিহিতার অভাব রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, কোন কারনে আগের বছরের চাইতে এই বছর আয় কমলেই এনবিআর এসে হয়রানি করে। কোন বছরে যে ব্যবসা কমও হতে পারে তা এনবিআরকে বোঝাতে বেগ পেতে হয়। এছাড়াও প্রতিবছর এনবিআর অযৌক্তিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে, অথচ বছর শেষে সেই লক্ষ্যমাত্রা কেন অর্জিত হলো না তা কাউকে জিজ্ঞেস করতে দেখা যায় না।

আমরা সবসময় শুনি ৭০ লাখ করদাতা রয়েছেন। ব্যাপারটি আসলে তা নয়। ৭০ লাখ কর সনাক্তকরন নাম্বার পেয়েছেন, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে কর দেন মাত্র ২৩ লাখ। এই ২৩ লাখের গলা টিপে সরকার কর আদায় করছেন, অথচ এর বাইরেও কর আদায়ের অসংখ্য সুযোগ রয়েছে। সরকারের উচিত তার করজাল বিস্তৃত করে কর-বোঝা লাঘব করা।

এছাড়া এ সম্মেলনে কুটির, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই) খাত, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, সমুদ্র অর্থনীতি, দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজিটাল ব্যবস্থা, কর ব্যবস্থাপনা, এলডিসি উত্তরণসহ কয়েকটি বিষয়ে সংগঠনের পর্যবেক্ষণ ও পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। এ সময় ঢাকা চেম্বারের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আরমান হক ও সহসভাপতি মনোয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

spot_img

অন্যান্য সংবাদ