মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর 27, 2022

ইপিএস ঝড়ে লন্ডভন্ড বাজার

শাফিউন ইবনে শাহীনঃ আরও একটি খারাপ দিন গেল পুঁজিবাজারে। টানা চার দিন আর সাত কার্যদিবসের মধ্যে ছয় দিনই পতন দেখল বিনিয়োগকারীরা। যেসব শেয়ারের দর টানা কমেছে, তাদের কোনটা কমেছে কারনে, কোনটা কমেছে অকারনে। কিছু বোঝার আগেই হাতে থাকা শেয়ারের দাম কমে যাচ্ছে অনাকাংঙ্খিত ভাবে। অবশ্য বছরের এই সময়ে বাজার এমনিতেই অস্থির থাকে। কোম্পানিগুলোর সর্বশেষ প্রান্তিকের আসন্ন প্রতিবেদন প্রকাশকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা থাকে বিনিয়োগকারিদের মধ্যে।

তবে এই উত্তেজনা বা এক্সাইটমেন্ট যেন এবার খানিকটা মাথাব্যাথার কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে অনেকের জন্য। কোন সিদ্ধান্তই যেন আশানুরুপ হচ্ছে না তাদের। যেদিকে হাত দিচ্ছেন সেদিকেই লোকসান গুনতে হচ্ছে। কোন কোম্পানির প্রান্তিকে ভালো ফল আসবে ভেবে শেয়ার কিনতে না কিনতেই দাম কমে যাচ্ছে। আবার কোন কোম্পানির ভালো ফল আসার পরেও দর কমে যাচ্ছে। কোম্পানির ইপিএস ভালো আসুক বা খারাপ, কিছু খাতে শেয়ারের দর কমছে ঢালাওভাবে।

আর এমন অদ্ভুত ধরনের দরপতনে হতাশা তীব্র হচ্ছে বিনিয়োগকারীদের। এই পরিস্থিতিতে নতুন বিনিয়োগেও আগ্রহী হচ্ছেন না কেউ । আরও বড় পতনের শংকায় হাতে থাকা শেয়ারও ছেড়ে দিচ্ছেন অনেকে। ফলে লেনদেনও গতি পাচ্ছে না। যার কারনে গতকালের চাইতে আজ লেনদেন কমেছে ১শ কোটি টাকারও বেশি।

তবে এই অমানিশা খুব দ্রুতই কেটে যাবে বলে আশা করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে আইল্যান্ড সিকিউরিটিজের সহব্যবস্থাপক রাশেদ শেখ বলেন, ‘বাজার যে অদ্ভুত বিহেভ করছে তা খুব শিগগিরই শেষ হবে। কোম্পানিগুলো সর্বোচ্চ এই সপ্তাহের মধ্যেই তাদের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ শেষ করবে। প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে যে অস্থিরতা তা তখন শেষ হবে। আশা করা যায় এরপর থেকে বাজার স্থিতিশীল হয়ে যাবে।’

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের আজকের বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, বরাবরের মতো এদিনও ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে ডিএসইতে লেনদেন শুরু হতেই প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ১০ পয়েন্ট বেড়ে যায়। তবে, প্রথম ১০ মিনিটের লেনদেন শেষ হতেই উলটে যেতে থাকে চিত্র। লেনদেনের সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বড় হতে থাকে পতনের মাত্রা। ফলে সূচকের বড় পতন দিয়েই শেষ হয় দিনের লেনদেন।
দিনের শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৬৫ পয়েন্ট কমে ৬ হাজার ৯২৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অপর দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ২৬ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৫৫৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক ৯ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৪৮১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

আজ সারাদিনে ১ হাজার ২১৫ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। যেখানে গতকাল ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ৩৩৩ কোটি টাকার। সে হিসেবে লেনদেন কমেছে ১১৮ কোটি ১২ লাখ টাকা।
ডিএসইতে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ৭২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ২৬৪টির। আগের দিনের দর ধরে রেখেছে ৪৪টি কোম্পানি।

দাম বাড়ার তালিকায় স্থান করে নেওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে তিনটি শেয়ার যতটুকু বাড়া যায় সেই দামে যেয়ে বিক্রেতা শুন্য হয়ে পড়ে। এ তিন কোম্পানির মধ্যে ন্যাশনাল পলিমার ছাড়া বাকি বিডি থাই ফুড ও ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্স নতুন তালিকাভুক্ত কোম্পানি।

spot_img

অন্যান্য সংবাদ