বুধবার, সেপ্টেম্বর 28, 2022

উত্থান দিয়ে সপ্তাহ শেষ আগামির জন্য শুভ ইঙ্গিত

পূঁজিবাজার রিপোর্টঃ একদিন পরই আবার ঘুরে দাড়ালো বাজার।ঘুরে দাড়ানোর এই প্রক্রিয়ায় আজ সুচক বাড়লেও বাড়েনি লেনদেন।বিশেষজ্ঞদের ধারনা, বিনিয়োগকারিদের সচেতনতার কারনে শেয়ার বিক্রিতে কম চাপ থাকায় লেনদেন কমেছে যা বাজারের জন্য শুভ ইঙ্গিত।কারন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ক্রয় চাপ বাড়লে তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবেই শেয়ারের দাম বাড়বে।তবে আজ বহুল আলোচিত বেক্সিমকো লিমিটেডের তিন হাজার কোটি টাকার গ্রিন সুকুকের লেনদেন শুরু হওয়ার দিন পুঁজিবাজারে একটি বড় ধাক্কা লাগবে এমনটাই মনে করেছিলেন সাধারন বিনিয়োগকারিরা। কিন্তু এদিন সূচক কিছুটা বাড়লেও লেনদেন কমে গেছে। সুকুকেও খুব একটা লেনদেন হয়েছে এমন নয়, দিন শেষে হাতবদল হয়েছে ৩৩ কোটি টাকার বন্ড।
নতুন বছরের প্রথম সপ্তাহে পাঁচ কর্মদিবসই পুঁজিবাজারে সূচক বাড়লেও দ্বিতীয় সপ্তাহে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। প্রথম দিন বড় পতন, তার পরদিন বড় উত্থান, এরপর আবার বড় পতন, শেষ দিনে আবার সূচক বৃদ্ধি।
সপ্তাহের শেষ কর্মদিবস বৃহস্পতিবার উঠানামা করতে করতে সূচকে যোগ হয়েছে ২১ পয়েন্ট। তবে লেনদেন কমে গেছে চার শ কোটি টাকার বেশি।
এদিন লেনদেনে প্রধান আকর্ষণ ছিল সুকুক বন্ড। গত এক বছর ধরেই এই বন্ডটি নিয়ে তুমুল আলোচনা হচ্ছে। বন্ডটি যে লভ্যাংশের নিশ্চয়তা দিয়েছে, তা যে কোনো বিবেচনায় আকর্ষণীয়। তারপরেও সাধারণ বিনিয়োগকারীদেরকে এটি খুব একটা আকৃষ্ট করতে পেরেছে এমন নয়। পরে মূলত ব্যাংকগুলো এই বন্ডের ইউনিট কিনেছে।
বন্ডটি প্রতি বছর ন্যূনতম ৯ শতাংশ লভ্যাংশ দেবে, যার পুরোটাই করমুক্ত। আবার বেক্সিমকো লিমিটেডের লভ্যাংশ ১০ শতাংশের বেশি যতটুকু হবে, তার ১০ শতাংশ সুকুকের লভ্যাংশে যোগ হবে। প্রতি বছর সুকুকের ২০ শতাংশ টাকা তুলে নেয়া যাবে। অথবা এই টাকার বিনিময়ে বেক্সিমকো লিমিটেডের শেয়ার নেয়া যাবে। সেই শেয়ার দেয়া হবে বাজারদরের ২৫ শতাংশ কম দামে। ফলে সেখানে ৩৩ শতাংশ বেশি মুনাফা হবে। এই বিষয়টি বিবেচনায় নিলে বছরে মুনাফা ১৬ থেকে ১৭ শতাংশ হবে নিশ্চিতভাবেই। এর চেয়ে বেশিও হতে পারে।
পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরুর আগে সুকুকের লেনদেনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয়। সেখানে বক্তব্য রাখেন বেক্সিমকো লিমিটেডের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান। তিনি দেখান ব্যাংকে টাকা রাখার চেয়ে সুকুকে বিনিয়োগ করা লাভজনক।
পরে ১০০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি বন্ডের লেনদেন শুরু হয় ১১০ টাকায়। কিন্তু বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দাম কমতে থাকে। দিন শেষে ১০১ টাকায় শেষ হয়ে এটি।
করোনার নানাবিধ দু:সংবাদের মধ্যেও নতুন বছরের শুরু থেকেই বাজারের গতি উর্ধমুখী থাকাটা বিনিয়োগকারিদের জন্য বড় একটি স্বস্তির বিষয় বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।তারা গতকাল বুধবারের একটি বড় পতনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, আগের সপ্তাহে যেমন টানা বাজার বেড়েছে তেমনি গতকাল থেকে যদি টানা এক সপ্তাহ বাজারে পতন থাকতো তাইলে বিনিয়োগকারিরা এক কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে যেতো।তাদের ধারনা সামনের দিনগুলোতে বাজারে উত্থান পতন থাকবে কিন্তু টানা পতন আর হবেনা।তারা মনে করেন, বাজারে যে পরিমান তারল্য ঢুকেছে এবং গত একটি বছর ধরে বাজারে যেসব সংস্কার হয়েছে তাতে বাজারের দৌড় এখন অনেক দূর এটা সুনিশ্চত।
এদিকে আজ বৃহস্পতিবার সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে লেনদেন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ২১ পয়েন্ট বেড়ে ৭ হাজার ১৭ পয়েন্টে উঠে এসেছে। অপর দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ৯ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ৬১৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৬ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৫০১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
দিনভার ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ২৪২ কোটি ৮২ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয় ১ হাজার ৬৬৪ কোটি ১৭ লাখ টাকা। সে হিসেবে লেনদেন কমেছে ৪২১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।
ডিএসইতে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১৫৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ১৬৭টির। আর ৫৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমলেও পাঁচটি কোম্পানির শেয়ার দিনের দাম বাড়ার সর্বোচ্চ সীমা স্পর্শ করে।
এ পাঁচ কোম্পানির মধ্যে রয়েছে- রংপুর ফাউন্ড্রি, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, অ্যাপেক্স ফুডস, পেনিনসুলা চিটাগাং এবং বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন। এ প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার দিনের সর্বোচ্চ দামে লেনদেন হলেও এক পর্যায়ে বিক্রয় আদেশের ঘর শূন্য হয়ে পড়ে। অর্থাৎ যাদের কাছে কোম্পানিগুলোর শেয়ার আছে তারা বিক্রি করতে চাচ্ছিলেন না।
অন্যদিকে, ডিএসইতে টাকার অংকে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন। কোম্পানিটির ৮০ কোটি ৭৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা পাওয়ার গ্রিডের ৬০ কোটি ৯৬ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। ৫৪ কোটি ৪০ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে বেক্সিমকো।
এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ দশ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, আরএকে সিরামিক, ফরচুন সুজ, তিতাস গ্যাস, বেক্সিমকো গ্রীণ সুকুক, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স এবং লাভেলো আইসক্রিম।
অপর শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ৪৮ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৪২ কোটি ২৯ লাখ টাকা। লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৯৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১২০টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৩১টির এবং ৪৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

spot_img

অন্যান্য সংবাদ