বুধবার, সেপ্টেম্বর 28, 2022

কমোডিটি এক্সচেঞ্জের অভিজ্ঞতা নিতে ভারত যাচ্ছে সিএসই

পুঁজিবাজার রিপোর্টঃ দেশে প্রথমবারের মতো কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)। ইতোমধ্যে এ কাজের জন্য সিএসইকে অনুমোদন দিয়েছে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

তবে দেশে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ গঠনের বিষয়ে কোনো প্রতিষ্ঠানের নেই পূর্ব অভিজ্ঞতা। তাই এ বিষয়ে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জ (এমসিএক্স) পরিদর্শন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিএসই।

আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে ভারতে সফরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে সফরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে করোনাভাইরাস সংক্রামণ পরিস্থিতির ওপর। ইতোমধ্যে ভারত সফরে অংশগ্রহণের জন্য বিএসইসি, অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে আমন্ত্রণ জানিয়েছে সিএসই।

জানা গেছে, বিএসইসি মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জ পরিদর্শনের জন্য তাদের চারজন প্রতিনিধিকে মনোনয়ন দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন- বিএসইসি’র কমিশনার অধ্যাপক ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ, পরিচালক মো. মনসুর রহমান, অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম ও সহকারী পরিচালক মো. মেহেদী হাসান রনি।

এ সফরে সিএসই থেকে পাঁচজন প্রতিনিধিকে মনোনীত করেছে। তারা হলেন- সিএসই’র চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহীম, শেয়ারহোল্ডার পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত মেজর এমদাদুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. গোলাম ফারুক, সহকারী মহাব্যবস্থাপক মাকসুদুর রহমান এবং উপ-ম্যানেজার ও সিএসই’র প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট কমিটির সচিব মো. ফয়সাল হুদা।

ইতোমধ্যে বাণিজ‌্য মন্ত্রণালয় থেকে দুজন প্রতিনিধিকে সফরে অংশগ্রহণের জন্য মনোনয়ন দিয়েছে। তবে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এখনও সফরে অংশগ্রহণকারীদের তালিকা পাঠানো হয়নি। আর ভারত সফরে নেতৃত্ব দেবেন বিএসইসি’র কমিশনার অধ্যাপক ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ।

তথ্য মতে, সিএসইর পক্ষ থেকে পাট, তুলা, স্বর্ণ, আলু, পেঁয়াজ, চা ইত্যাদি পণ্যের মধ্য থেকে এক বা একাধিক পণ্য কমোডিটি এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে কেনাবেচা করা যায় কি না সে বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে। একটি কেন্দ্রীভূত বাজারের সঙ্গে পণ্য ব্যবসা ও ভোক্তাদের সেবা প্রদানের লক্ষ্যে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সংগঠিত ও স্বচ্ছ বাজার সিন্ডিকেট ও দামের কারসাজি কমাতে এ ধরনের এক্সচেঞ্জ মুখ্য ভূমিকা পালন করবে।

সিএসই সূত্রে জানা গেছে, বিএসইসির নির্দেশনা অনুযায়ী, সিএসই ইতোমধ্যে প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট কমিটি গঠন করেছে। এ কমিটির পরামর্শ অনুযায়ী কমোডিটি এক্সচেঞ্জের প্ল্যাটফর্ম পরিচালনার পদ্ধতি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশ পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নতুন প্ল্যাটফর্মে সব ধরনের বিনিয়োগকারীকে পণ্য লেনদেনের সুবিধা দিতে কাজ চলছে। তবে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালু করলে প্রথম পর্যায়ে নন ডেলিভারি ক্যাশ সেটেলমেন্ট পদ্ধতি অনুসরণ করতে চায় সিএসই। ফলে ফিজিক্যাল ডেলিভারি ক্যাশ সেটেমেন্ট পদ্ধতি না থাকার কারণ সাময়িকভাবে ওয়্যার হাউজ ও গোডাউন লাগছে না। তবে পরবর্তীতে ফিজিক্যাল ডেলিভারি ক্যাশ সেটেলমেন্ট পদ্ধতি চালু করা হবে। এ জন্য সিএসই শিগগিরই কনসালটেন্ট নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছে। কনসালটেন্টের পরামর্শে এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিশেষ করে বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষপটে কি কি পণ্য নিয়ে এ কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালু করা যায় সে বিষয়ে পরামর্শ নেওয়া হবে। তবে কনসালটেন্ট নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি এখন চূড়ান্ত করা হয়নি।

জানা গেছে, কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালু করার আগে স্টোরেজ মেকানিজম ও ম্যানেজমেন্ট, ডেলিভারি সিস্টেম, ক্লিয়ারিং ও সেটেলমেন্ট সিস্টেম, হিউম্যান রিসোর্সসহ, বাজার স্থাপনের বিষয়টি বিবেচনা করছে সিএসই। এসব বিষয়ে ভারতের মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জ সিএসইকে পরামর্শ প্রদান করতে সম্মত হয়েছে। তবে এখনও সিএসই কোনো পরামর্শক প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দেয়নি।

প্রসঙ্গত, কমোডিটি এক্সচেঞ্জ হলো এমন একটি লেনদেন ব্যবস্থা, যেখানে বিভিন্ন পণ্য কেনাবেচা করা হয়ে থাকে। কাগুজে বা ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে এই কেনাবেচা নিষ্পত্তি হবে। মূল এ লেনদেনকৃত পণ্যটি কোনো গুদামে বা মাঠে থাকে। সেখান থেকে একটি নির্দিষ্ট সময় পর এটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি বা হস্তান্তর হয়। সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশ, ১৯৬৯ অনুযায়ী, কৃষিপণ্য, মাছ, গবাদিপশু, খনিজ ও জ্বালানি পণ্য, বনজ সম্পদসহ উৎপাদিত যেকোনো পণ্যই কমোডিটি এক্সচেঞ্জের আওতায় কেনাবেচা করা যাবে। এসব পণ্য কেনাবেচা বা লেনদেনের জন্য যে প্রতিষ্ঠান গঠন করা হবে, সেটাই কমোডিটি এক্সচেঞ্জ নামে পরিচিত হবে।

  • ট্যাগ
  • CSE
spot_img

অন্যান্য সংবাদ