শুক্রবার, মে ২৭, ২০২২

দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থার সমন্বয়ের অপেক্ষাঃ পালটে যাবে বাজারের চেহারা

পুঁজিবাজার রিপোর্টঃ নতুন বছরের তৃতীয় কার্যদিবসেও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে(ডিএসই) সুচকের উত্থান ও হাজার কোটি টাকার ওপরে লেনদেন করে বাজার শেষ হয়েছে। আজ ৪ জানুয়ারী মঙ্গলবার সুচকে অন্তত ৪ থেকে ৫ বার উত্থান পতন হয়েছে। এর মধ্য থেকেই অনেকে প্রফিট বের করে নিয়েছেন। বাজার আস্তে আস্তে যে গতিতে এগোচ্ছে অন্তত এটুকুর ধারাবাহিকতাও যদি ধরে রাখা সম্ভব হয় তাহলেই বাজারের গন্তব্য হবে বহুদূর। এরই মধ্যে যদি সরকারের সাথে বহুল আলোচিত দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থার বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়ে যায় তাহলে বাজার কতদুর যাবে তা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কমিশনের(বিএসইসি)মধ্যে আমিত্ব, বড়ত্ব এবং কয়েকটি নীতিগত বিষয় নিয়ে মনোস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ের কারনে গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া দর সংশোধনে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন বিনিয়োগকারিরা। এই অবস্থা নিরসনে দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসির মধ্যে দ্বন্দ্বের অবসান কল্পে গত ৭ ডিসেম্বর অর্থ মন্ত্রনালয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিনিয়োগকারিরা অনেক আশা নিয়ে তাকিয়ে ছিল এই বৈঠকের দিকে। কিন্তু সেই বৈঠক শেষ হয় কোনো সুনির্দিষ্ট ঘোষণা ছাড়াই। জানানো হয়, ডিসেম্বরের শেষে বা জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা আসবে। ডিসেম্বরের শেষে সেই বৈঠক হয়নি, জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহও যায় যায়। বিনিয়োগকারীরা এখনও সেই বৈঠকের অপেক্ষায় রয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রনালয় এখনো একেবারে চুপ।

অনেকের ধারনা এই বৈঠকটির আয়োজন করা সম্ভব হলে বাজারের চেহারা একেবারেই পালটে যাবে।

এদিকে আজকের বাজার বিশ্লেষনে দেখা যাচ্ছে,দিন শেষে ডিএসইতে বেড়েছে ১৬৭টি কোম্পানির শেয়ার দর, কমেছে ১৮০টির, অপরিবর্তিত ছিল ৩১টির দর।

লেনদেনে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে ছিল বিমা খাতের কোম্পানিগুলো। সাধারণ বিমা খাতের ৭৪ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে। আর জীবন বিমা খাতের শতভাগ কোম্পানির দর বেড়েছে মঙ্গলবার।

ওষুধ ও রসায়ন খাতের ৭৪ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে। আর কমেছে ২৬ শতাংশ কোম্পানির।

বিবিধ খাতের ৪৬ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে। তবে এই খাতের প্রধান কোম্পানি বেক্সিমকো লিমিটেড দর হারিয়েছে।

ব্যাংক খাতের ২৮ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে। এছাড়া প্রকৌশল খাতের ৪২ শতাংশ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ৩৪ শতাংশ, মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতের ২৭ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে।

লেনদেনে সেরা ছিল বিবিধ খাত। দ্বিতীয় স্থানে ছিল বিমা। পরের অবস্থানগুলো ছিল ওষুধ ও রসায়ন, বস্ত্র, ব্যাংক, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, খাদ্য ও আনুষঙ্গিক, প্রকৌশল খাত।

মঙ্গলবার লেনদেনে দিনের সর্বোচ্চ দরে লেনদেন হয়েছে নয়টি কোম্পানির। এর মধ্যে ১০ শতাংশ পর্যন্ত শেয়ার দর বেড়েছে দুটি কোম্পানির।

এসব কোম্পানির মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল জীবন বিমা কোম্পানি।

এর মধ্যে মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার দর বেড়েছে ১০ শতাংশ। কোম্পানিটিতে লেনদেন হয়েছে ৬ কোটি ১৯ লাখ টাকা। হাতবদল হয়েছে ৭ লাখ ৯০ হাজার ৫৬২টি শেয়ার।

ফারইস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্সের দরও বেড়েছে ১০ শতাংশ। কোম্পাটির ৬৩ টাকার শেয়ার পৌঁছেছে ৬৯ টাকা ৩০ পয়সায়।

রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের দর ৯.৯৩ শতাংশ। ৬৩ টাকা ৪০ পয়সা থেকে দর এক দিনে হয়েছে ৬৯ টাকা ৭০ পয়সা।

প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের দর ৯০ টাকা ৯০ পয়সা থেকে ৯.৭৯ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৯৯ টাকা ৮০ পয়সা।

সান লাইফ ইন্স্যুরেন্সে কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে ৯.৬০ শতাংশ। কোম্পানিটির ৫২ লাখ টাকার ১ লাখ ৩৬ হাজার ৩৭৫টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে।

বিবিধ খাতের বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের দর ৯.৯১ শতাংশ, খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের লাভেলো আইসক্রিমের দর ৯.৮৭ শতাংশ বেড়েছে।

শীর্ষ দশের অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলের দর ২৬ টাকা ৪০ পয়সা থেকে ৯.৮৪ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ২৯ টাকা। পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে নতুন বোর্ড পুনর্গঠন করা জাহিনটেক্সের দর ৯.৫৮ শতাংশ বেড়ে ৭ টাকা ৩০ পয়সা থেকে হয়েছে ৮ টাকা।

দশম স্থানে থাকা অ্যাকটিভ ফাইন কেমিক্যালের দর ৮.৬৯ শতাংশ বেড়ে ২৭ টাকা ৬০ পয়সা থেকে হয়েছে ৩০ টাকা।

আরও তিনটি কোম্পানির দর ৭ শতাংশের বেশি, ৪টির দর ৬ শতাংশের বেশি, ৫টির দর ৫ শতাংশের বেশি, ১১টির দর ৪ শতাংশের বেশি, ১১টির দর ৩ শতাংশের বেশি, ১৪টির দর ২ শতাংশের বেশি, ৪৫টির দর বেড়েছে ১ শতাংশের বেশি।

এদিন সবচেয়ে বেশি ৫.৪১ শতাংশ শেয়ার দর কেমেছে আইসিবি এএমসিএল মিউচ্যুয়াল ফান্ডের। ফান্ডটির ইউনিট প্রতি দর ৭ টাকা ৪০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৭ টাকা। ৯৪ লাখ ১৭ হাজার টাকার লেনদেন হয়েছে ১৩ লাখ ৩০ হাজার ১১২টি ইউনিটি।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজের দর কমেছে ৫.১১ শতাংশ। ৭৭ লাখ টাকায় হাতবদল হয়েছে ২ লাখ ৭৬ হাজার ২৫৫টি শেয়ার।

এছাড়া সোনারগাঁও টেক্সটাইলের দর ৩.২৭ শতাংশ, হামিদ ফেব্রিক্সের দর কমেছে ৩ শতাংশ।

দুই শতাংশের বেশি শেয়ার দর কমেছে ২৫টি কোম্পানির। এর মধ্যে হাওয়েল টেক্সটাইলের ২.৯৮ শতাংশ, শাহজিবাজার পাওয়ার কোম্পানির দর ২.৯৫ শতাংশ, ইউনিক হোটেলের দর ২.৮৫ শতাংশ, মুন্নু ফেব্রিক্সের দর কমেছে ২.৮৩ শতাংশ।

দরপতনের তালিকায় ছিল আরও একটি মিউচ্যুয়াল ফান্ড। সিএপিএম আইবিবিএল ইসলামী মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট দর কমেছে ২.৭৯ শতাংশ। বেক্সিমকো লিমিটেডের দর কমেছে ২.৭৪ শতাংশ। নূরানী ডাইংয়ের শেয়ার দর কমেছে ২.৫৯ শতাংশ।

দরপতন হলেও সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে বেক্সিমকো লিমিটেডের। কোম্পানিটির ১০৬ কোটি টাকার ৬৯ লাখ ১৮ হাজার ১৪২টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে।

এছাড়া বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ৬৮ কোটি ৯২ লাখ টাকার ৮২ লাখ ৯৪ হাজার ১০টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে।

ফরচুর সুজের শেয়ারে যোগ হয়েছে ৪০ পয়সা। কোম্পানিটির শেয়ার দর ১০৭ টাকা ৭০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ১০৮ টাকা ১০ পয়সা। লেনদেন হয়েছে মোট ৪৯ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।

অ্যাকটিভ ফাইনে লেনদেন হয়েছে ৩৬ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। শেয়ার হাতবদল হয়েছে ১ কোটি ২৭ লাখ ১২ হাজার ২৯৪টি।

লাভেলো আইসক্রিমে ২৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা, জেনেক্স ইনফোসিসে ২৮ কোটি ৪৬ লাখ টাকা, পাওয়ারগ্রিডে ২৮ কোটি ১ লাখ টাকা, সোনালী পেপারে ২৫ কোটি ৫১ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে।

ওরিয়ন ফার্মা ও জিএসপি ফাইন্যান্সে যথাক্রমে ২৩ কোটি ৩৭ লাখ টাকা ও ২২ কোটি ৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ওরিয়ন ফার্মায় ২৩ লাখ ৪১ হাজার ৬০৫টি শেয়ার ও জিএসপি ফাইন্যান্সের ৮০ লাখ ৬০ হাজার ৩৭১টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে।

spot_img

অন্যান্য সংবাদ