বৃহস্পতিবার, মে ২৬, ২০২২

বিতর্কিত জেএমআই হসপিটালের বিডিং শুরু ৯ জানুয়ারি

পুঁজিবাজার ডেস্কঃ করোনা মহামারির দূর্যোগকালীন সময় মাস্ক কেলেঙ্কারীতে বিতর্কের জন্ম দেওয়া জেএমআই হসপিটাল রিক্যুইজিট ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেডের বিডিং শুরু হবে আগামী ৯ জানুয়ারি। ওই দিন বিকাল ৫টা থেকে ১২ জানুয়ারি বিকাল ৫টা পর্যন্ত কোম্পানিটির বিডিংয়ে অংশ নেয়া যাবে।

বুক বিল্ডিং পদ্ধতির নিয়ম অনুসারে প্রথমে নিলামের (Bidding) মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে তাদের জন্য সংরক্ষিত শেয়ার বিক্রি করবে কোম্পানিটি। আর নিলামে নির্ধারিত কাট-অফ প্রাইস থেকে ২০% কম দামে সাধারণ বিনীয়োগকারীদের কাছে শেয়ার বিক্রি করা হবে।

আইপিওর অনুমোদন

কোম্পানিটি বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের থেকে ৭৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করতে চায়। বুকবিল্ডিং পদ্ধতির আইপিও পদ্ধতির অংশ হিসেবে ২০১৯ সালের ২০ অক্টোবর রাজধানীর একটি হোটেলে রোডশো করে কোম্পানিটি। তবে কোম্পানিটির আইপিও আবেদন গত বছরের ৩০ জুলাই বাতিল করে দিয়েছিল কমিশন। কিন্তু সেই কমিশনই আবার কোম্পানিটিকে আনতে বিডিং অনুমোদন দিল। পুঁজিবাজার থেকে সংগৃহীত টাকা ফ্যাক্টরি বিল্ডিং ও অন্যান্য নির্মাণ, নতুন যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম ক্রয়, ভূমি উন্নয়ন, ঋণ পরিশোধ ও আইপিওর ব্যয়ে খরচ হবে।

তবে কোম্পানিটির আইপিও অনুমোদনের ক্ষেত্রে বিএসইসি শর্ত আরোপ করেছে। শর্ত অনুসারে, আইপিও থেকে সংগৃহীত অর্থ থেকে আন্ত:কোম্পানি ঋণ দেওয়া যাবে না। এছাড়াও শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির পূর্বে কোম্পানিটি কোন প্রকার লভ্যাংশ ঘোষণা, অনুমোদন বা বিতরণ করতে পারবে না মর্মে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) গত ১৬ নভেম্বর ৭৯৯তম নিয়মিত কমিশন সভায় কোম্পানিটির বিডিংয়ের অনুমোদন দেয়। এই টাকা উত্তোলনের কাজে ইস্যু ম্যানেজার হিসেবে কাজ করছে রাষ্ট্রীয় মালিকানার বাণিজ্যিক ব্যাংক জনতা ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান জনতা ক্যাপিটাল অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।

কারা জেএমআই হসপিটাল

দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগে ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় জেএমআই হসপিটাল রিক্যুইজিট ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেড। ২০১০ সালে কোম্পানিটি বাণিজ্যিক কর্মকা- শুরু করে। আর পণ্য উৎপাদন শুরু করে ২০১৩ সালের ১৭ জানুয়ারি। বাংলাদেশে মেডিকেল ডিভাইসের চাহিদার ৯০ শতাংশই আমদানির মাধ্যমে পূরণ হয়। জেএমআই রিক্যুইজিট একটি আমদানি বিকল্প প্রতিষ্ঠান, যেটি স্বাস্থ্য ও হাসপাতাল পণ্য উৎপাদন করে।

কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ৯০ কোটি টাকা। ২০২০ সালের ৩০ জুন তারিখে সমাপ্ত হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী ৩০ জুন তারিখে শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ছিল ২৯ টাকা ৯৯ পয়সা। পুন:মূল্যায়ন ছাড়া নেট অ্যাসেটভ্যালু হয়েছে ২৭ টাকা ৭৮ পয়সা। গত পাঁচ বছরের ভারিত গড় হারে শেয়ার প্রতি আয় ছিল ২ টাকা ৪২ পয়সা।

উল্লেখ্য, জেএমআই হসপিটাল থেকে জীবন রক্ষাকারী এন-৯৫ মাস্ক এর নামে নকল মাস্ক সরবরাহ করে ডাক্তার-নার্সদের ঝুকিঁ তৈরী করা হয়। পরে আবার দায়মুক্তি চেয়ে ক্ষমাও চায় প্রতিষ্ঠানটি। তবে বাজার সম্পর্কিত অনেকেই আর এ প্রতিষ্ঠানটিকে শেয়ারবাজারে দেখতে চান না। তাদের দাবি, যে কোম্পানির কাছে টাকাই সব, জীবনের মূল্য নেই। সে কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজন নেই।

spot_img

অন্যান্য সংবাদ